দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধই মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির বড় ঝুঁকি: আইএমএফ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতির জন্য দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং জ্বালানি উৎপাদন, নৌপথে পণ্য পরিবহন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় নতুন করে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়াকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং জ্বালানি সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পাকিস্তান নিয়ে গঠিত অঞ্চলের অর্থনীতি ২০২৬ সালে ১ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। অথচ গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এ অঞ্চলে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ
আইএমএফের মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক পরিচালক জিহাদ আজুর বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে বিভিন্ন দেশের বাজেট ও বৈদেশিক লেনদেনে থাকা উদ্বৃত্ত, বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহার এবং মজুত থেকে পণ্য সরবরাহের কারণে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রাথমিক ধাক্কা কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে এসব সুরক্ষাব্যবস্থা বা বিকল্প ব্যবস্থার সক্ষমতা সীমিত বলে সতর্ক করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এসব সহায়তা একপর্যায়ে পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানির দাম, পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের ওপর।

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে বড় ওঠানামা
২০২৬ সালে আঞ্চলিক অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার পূর্বাভাস মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পাকিস্তানের জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাব দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে। জ্বালানি রপ্তানিনির্ভর দেশগুলো সরবরাহ বিঘ্ন ও অবকাঠামোগত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে উচ্চমূল্য ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ সামলাতে হতে পারে।

আইএমএফের পূর্বাভাসে ২০২৭ সালে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলা হলেও তা যুদ্ধের পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যপথ কতটা স্বাভাবিক হয়, তার ওপর নির্ভর করবে। সংস্থাটির সতর্কবার্তা হলো, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু সংঘাতপূর্ণ দেশগুলো নয়, বরং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত অন্য অর্থনীতিগুলোও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত