রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে গত দুই বছরে ৬১ কোটি টাকা খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংকের নীলফামারীর সৈয়দপুর, চট্টগ্রামের লালদীঘি ইস্ট করপোরেট, পাবনার কাশিনাথপুর ও চাঁদপুরের ছেংগারচর বাজার শাখায় এসব ঘটনা ঘটে। এদিকে ঢাকার রমনা করপোরেট শাখার লকার থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশ, গ্রাহকের ভুয়া স্বাক্ষর তৈরি করে ভুয়া লেনদেন বা ভল্ট থেকে সরাসরি অর্থ সরানোর মাধ্যমে এসব ঘটনা ঘটে।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় উঠে এসেছে যে, সৈয়দপুর শাখার ঘটনায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের নাম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে এসেছে। ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি সহকর্মীদের পরিচয়পত্র ও গোপন সংকেত ব্যবহার করে নিজের এবং কয়েকটি সন্দেহজনক হিসাবে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা স্থানান্তর করেন।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দপুর শাখার রংপুর বাস টার্মিনাল এলাকার ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর একটি হিসাব থেকেই প্রায় ১৫ কোটি টাকা সরানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে আব্দুল লতিফ বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।
নিরীক্ষায় আরও কয়েকটি সন্দেহজনক হিসাবের তথ্য উঠে এসেছে। নিলুফার আক্তার ও রোদেলা আক্তারের নামে খোলা অগ্রণী সুপার সেভিংস হিসাব ব্যবহার করে আরটিজিএসের মাধ্যমে যথাক্রমে ৭ কোটি ২৭ লাখ ও ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে এসব হিসাবের সঙ্গে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গেও ব্যাংকের সংরক্ষিত তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এসব হিসাবের ছবি, স্বাক্ষর কিংবা হিসাব খোলার আবেদনপত্রের কপিও পাওয়া যায়নি বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তমালের নিজের হিসাবে গেছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। তার বড় ছেলের নামে খোলা তৌহিদ ডেইরি খামারের হিসাবেও প্রায় আধা কোটি টাকা স্থানান্তরের তথ্য রয়েছে। সহযোগী কর্মকর্তা আব্দুল লতিফের শ্যালক মেহেদী হাসানের প্রতিষ্ঠান ‘মন্নুজান ট্রেডার্স’-এর হিসাব ব্যবহার করে আরও প্রায় ৪০ লাখ টাকা সরানোর অভিযোগ রয়েছে। মেহেদী হাসানের দাবি, তার হিসাবের চেক বই তমাল ও আরেক সহকর্মী নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি নিজে ওই হিসাব থেকে কোনো টাকা তোলেননি।
তদারকি কোথায় ছিল: সৈয়দপুরের ঘটনায় শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ সরানোর অভিযোগই নয়, প্রশ্ন উঠেছে শাখা ব্যবস্থাপনা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও। দীর্ঘ সময় ধরে বিনা ভাউচার বা চেক ছাড়াই কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে এল না কেন—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত দল। একই সঙ্গে জোনাল ও মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের নিয়মিত নিরীক্ষার মধ্যেও এত বড় অনিয়ম ধরা না পড়ায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর তমাল কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে এবং বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের রংপুর কার্যালয়কে জানিয়েছে। পরে মামলা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কয়েকজন সহকর্মী ও স্বজন দাবি করেছেন, তিনি পরিবার নিয়ে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।
লালদীঘিতে প্রায় ৫ কোটি টাকার নগদ ঘাটতি: চট্টগ্রামের লালদীঘি ইস্ট করপোরেট শাখায়ও প্রায় ৫ কোটি টাকার নগদ ঘাটতির তথ্য সামনে এসেছে। অগ্রণী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ তারাই শাখার সিনিয়র অফিসার মো. কামরুল হোসেনকে নগদ অর্থের অনিয়মের সময় হাতেনাতে ধরেছেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কামরুল হোসেন যাকে ওই অর্থ দিয়েছিলেন, বিষয়টি তিনিও স্বীকার করেছেন এবং বর্তমানে তিনিও কারাগারে আছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই শাখার ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার নগদ ঘাটতির তথ্য উঠে আসে। তবে ঘাটতির প্রকৃত কারণ কী, কতদিন ধরে হিসাবের সঙ্গে বাস্তব নগদের পার্থক্য ছিল এবং এর জন্য কারা দায়ী—এসব প্রশ্ন এখনো তদন্তের বিষয়। এরই মধ্যে শাখার নগদ লেনদেন, ক্যাশ কাউন্টার ও ভল্টের হিসাব, ভাউচার, দিনশেষের নগদ স্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও তদারকির বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগেও ভল্টে বড় ঘাটতি: অগ্রণী ব্যাংকের শাখাগুলোয় অর্থ আত্মসাৎ বা হিসাবের গরমিলের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে পাবনার সাঁথিয়ার কাশিনাথপুর শাখায় ১০ কোটি ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৭৮ টাকার গরমিল ধরা পড়ে। এ ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপকসহ তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার ও পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজার শাখার ভল্টে ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে। ব্যাংকের হিসাবে ভল্টে ১ কোটি ২ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮ টাকা থাকার কথা থাকলেও গণনার পর পাওয়া যায় ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮ টাকা। এ ঘটনায় ক্যাশিয়ার দীপংকর ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অগ্রণী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখার একটি লকার থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার অভিযোগ করেন কানাডাপ্রবাসী এক নারী। তার অভিযোগ, জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে লকার পরিচালনা করে গহনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে।
নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন: অগ্রণী ব্যাংকের একাধিক শাখায় ধারাবাহিকভাবে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ, নগদ ঘাটতি ও লকার-সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, ঘটনাগুলো শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। নিয়োগ, পদায়ন, শাখা ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা, নিরীক্ষা এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের তদারকি—সবকিছুই পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রে ২০১২ সালের বড় নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই বছর অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ সিনিয়র কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান। ওই নিয়োগে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে ২০১২ সালের নিয়োগের পরীক্ষার খাতা ও সংশ্লিষ্ট নথি ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে সংরক্ষিত আছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনাও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সার্ভার জটিলতা এবং গ্রাহকের মোবাইল ফোনে যথাসময়ে বার্তা না পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব প্রযুক্তিগত সমস্যার সঙ্গে সাম্প্রতিক অর্থ আত্মসাতের ঘটনাগুলোর সরাসরি সম্পর্ক আছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ: অগ্রণী ব্যাংকে কেন এ ধরনের জালিয়াতি বারবার ঘটছে—এ প্রশ্নের উত্তরে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতি এবং নির্বাহীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ডিএমডি রুবানা পারভীনের মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যাংকের দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী প্রটোকলে থাকা প্রথম ডিএমডি প্রশাসনের দায়িত্বে থাকেন বলে কর্মকর্তারা দাবি করেন। কিন্তু সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম তৃতীয় স্থানে থাকা রুবানা পারভীনকে এ দায়িত্ব দেন। প্রশাসনের মহাব্যবস্থাপক মো. জালাল উদ্দিনকে নিয়েও ব্যাংকের অভ্যন্তরে নানা অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাবি, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের সুবিধাজনক জায়গায় পদায়নে প্রভাব বিস্তার করেন। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আরেকটি অংশের অভিযোগ, নির্বাহীদের ব্যক্তিগত বিরোধ, রাগ ও বিদ্বেষের কারণে দক্ষ ও নিরীহ কর্মকর্তারাও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এতে তদারকি দুর্বল হয় এবং সেই সুযোগে অনিয়মের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের সংস্কৃতির একটি গুরুতর উদাহরণ অগ্রণী ব্যাংকের ঘটনাগুলো। গ্রাহকের অর্থ ব্যাংকে জমা হলেও তা ব্যাংকের হিসাবে না গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে চলে যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা পর্ষদ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সমন্বিতভাবে তদন্ত করতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘প্রায় সব ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের টাকা উদ্ধার করে ফেরত দেওয়া। গ্রাহকদের আস্থা যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে ফের না ঘটে, সে জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
অগ্রণী ব্যাংকে একের পর এক গ্রাহকের অর্থ লোপাটের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সৈয়দপুর শাখার বিষয়ে বিএফআইইউকে পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএসডি-৩-এর প্রতিবেদনের আলোকে বিএফআইইউ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত সৈয়দপুর শাখাকেন্দ্রিক ছিল। অন্যান্য ঘটনার বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য চাওয়া হয়েছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার মাধ্যমেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘূর্ণিঝড় অর্নবের প্রভাবে যেসব এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে
‘শক্তিশালী ইরান’ গড়তে বিস্তৃত রূপরেখা দিলেন মোজতবা খামেনি
বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকার অবস্থান কতো?
সীতাকুণ্ডে বাস-লরির সংঘর্ষে নিহত ৫