নতুন পে স্কেল নিয়ে এত বিরক্তি কেন, কার লাভ আর কার ওপর চাপ?

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

বাংলাদেশে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদনের পরও এ নিয়ে স্বস্তির চেয়ে আলোচনা, প্রশ্ন ও অসন্তোষই বেশি চোখে পড়ছে। একদিকে দীর্ঘদিন পর বেতন বাড়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তি পাওয়ার কথা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে তাঁদের কী লাভ? এর ব্যয় মেটাতে গিয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি না, বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হবে কি না, কিংবা বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়বে কীভাবে?

নতুন পে স্কেল নিয়ে বিরক্তির কারণ অবশ্য এক নয়। সরকারি চাকরিজীবীদের একাংশের অসন্তোষ বাস্তবায়নের ধীরগতি ও বেতন নির্ধারণের হিসাব নিয়ে। আর সাধারণ মানুষের উদ্বেগ এর অর্থনৈতিক প্রভাব, আয়বৈষম্য এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো এখন কেবল সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক ন্যায্যতা ও রাষ্ট্রের ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়েও বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।

১১ বছর পর বেতন বাড়লেও প্রশ্নের শেষ নেই

২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোর পর দীর্ঘ সময় নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকর হয়নি। এ সময়ে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ব্যয় বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার যুক্তি নতুন বেতন কাঠামোর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট সরকার নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করে। এতে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ১০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেডভেদে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

কিন্তু বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ বড় হলেও এর বাস্তবায়ন একসঙ্গে হচ্ছে না। নতুন মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর নতুন হারে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। ফলে ঘোষণার পরপরই প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

১. বেতন বাড়বে, কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় বাড়বে কীভাবে?

নতুন পে স্কেল নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের সবচেয়ে বড় জায়গা এখানেই। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ কিংবা স্বল্প আয়ের পরিবারের আয় একই হারে বাড়ছে না।

একজন সরকারি কর্মচারী নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন। কিন্তু একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, দোকানকর্মী, পরিবহনশ্রমিক কিংবা ছোট ব্যবসায়ী একইভাবে বেতন বা আয় বৃদ্ধির নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির নবম গ্রেডে প্রবেশ পর্যায়ের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা হয়েছে। একই পর্যায়ের বেসরকারি খাতের কর্মীরা তুলনামূলক কম বেতন পান। ফলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির মধ্যে আয়বৈষম্য আরও দৃশ্যমান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এখানে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত একটি খাতের কর্মীদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হলে বেসরকারি খাতের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মীদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

২. বেতন বৃদ্ধির ব্যয় শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হবে?

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সব ভাতা কার্যকর হলে সরকারি বেতন-ভাতা খাতে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে টিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এত বড় অঙ্কের অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, সেটিই অর্থনীতিবিদদের অন্যতম উদ্বেগ।

সরকারের আয় আসে মূলত কর, ভ্যাট, শুল্ক, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আয় এবং অন্যান্য উৎস থেকে। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়লে বর্ধিত ব্যয় মেটাতে সরকারকে ঋণ নিতে হতে পারে, অন্য খাতের বরাদ্দ কমাতে হতে পারে কিংবা নতুন রাজস্ব সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হতে পারে।

প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের বক্তব্যের বরাতে বলা হয়েছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আগে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেট ঘাটতি, ঋণের প্রয়োজনীয়তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যদিকে, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নতুন বেতন কাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পাশাপাশি এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

অর্থাৎ বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করেও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে—এই ব্যয়ের অর্থের জোগান কীভাবে হবে এবং তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর কতটা পড়বে?

৩. মূল্যস্ফীতির মধ্যে নতুন করে দাম বাড়ার আশঙ্কা

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বড় উদ্বেগ মূল্যস্ফীতি। খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, পরিবহন ও শিক্ষার ব্যয় ইতিমধ্যে অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এতে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়তে পারে। কিন্তু সেই বাড়তি চাহিদার সঙ্গে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ না বাড়লে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে বেতন বাড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়বে—এমন সিদ্ধান্তও ঠিক নয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এর প্রভাব নির্ভর করবে অর্থের সংস্থান, বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ, রাজস্বনীতি এবং মুদ্রানীতির সমন্বয়ের ওপর।

টিবিএসের প্রতিবেদনে সিপিডির ফাহমিদা খাতুনের বক্তব্যে বলা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধির অর্থ যদি ব্যাংকঋণ, অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি কিংবা উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে জোগান দেওয়া হয়, তাহলে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য, আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

এ কারণে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা—বেতন বাড়ার সুবিধা সরকারি কর্মচারীরা পেলেও বাজারে দাম বাড়লে তার চাপ বহন করতে হবে সবাইকে।

৪. সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যেও কি সবাই সন্তুষ্ট?

নতুন পে স্কেল নিয়ে অসন্তোষ শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যেও বেতন নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

নতুন করে চাকরিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের বেতন বৃদ্ধির সুবিধা এবং আগে থেকে কর্মরতদের হিসাব এক নয়। চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে একই গ্রেডের কর্মীদের মোট বেতনে পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

একই গ্রেডে নতুন যোগ দেওয়া কর্মী এবং দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মীর বেতন বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে তাই অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো কর্মীদের প্রত্যাশা, তাঁদের দীর্ঘ চাকরির অভিজ্ঞতা ও ইনক্রিমেন্টের যথাযথ মূল্যায়ন করা হোক।

এর পাশাপাশি তিন ধাপে মূল বেতন এবং পরে ভাতা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েও অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের কাছে ঘোষিত বেতন আর হাতে পাওয়া মোট বেতনের মধ্যে পার্থক্য থাকায় অনেকের প্রত্যাশা পূরণ হতে সময় লাগবে।

৫. সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে সেবার মানও কি বাড়বে?

সাধারণ মানুষের আরেকটি বড় প্রশ্ন—বেতন বাড়ানোর বিনিময়ে সরকারি সেবার মান কতটা উন্নত হবে?

নাগরিকদের প্রতিদিন ভূমি অফিস, হাসপাতাল, থানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাসপোর্ট অফিস, স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সেবা নিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে।

অতীতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, আর্থিক নিরাপত্তা বাড়লে দুর্নীতির প্রবণতা কমবে এবং কর্মদক্ষতা বাড়বে। কিন্তু শুধু বেতন বাড়লেই দুর্নীতি বন্ধ হয় না—এমন প্রশ্নও রয়েছে।

টিবিএসের প্রতিবেদনে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। সে সময় বেতন বাড়ানোর সঙ্গে প্রশাসনে গতিশীলতা ও দুর্নীতি কমার প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন অর্থসচিব মাহবুব আহমেদের বক্তব্য অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির পরও দুর্নীতি বেড়েছিল। তিনি অবশ্য বেতন কাঠামো ও দুর্নীতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক টেনে নতুন পে স্কেল বাতিলের যুক্তি সমর্থন করেননি।

এখানেই জবাবদিহির প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে সেবার মান, স্বচ্ছতা, উপস্থিতি, কাজের গতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে জনগণের কাছে এই ব্যয়ের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।

৬. পেনশন ও বিশেষ সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন

নতুন বেতন কাঠামোতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বাড়ানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন দ্বিগুণ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি এক র‍্যাঙ্ক, এক পেনশন ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত অবসরপ্রাপ্তদের জন্য ইতিবাচক হলেও সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় আরও বাড়বে। ফলে বেতন, ভাতা ও পেনশন—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয়ের চাপ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।

৭. বেসরকারি খাত ও অন্য পেশার মানুষের জন্য কী?

নতুন বেতন কাঠামোর সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি হলো এর সুবিধা কারা পাচ্ছেন এবং কারা পাচ্ছেন না।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জাতীয় বেতন কাঠামো থাকলেও বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য একই ধরনের সর্বজনীন বেতন নিশ্চয়তা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট হয় না, কোথাও বেতন বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না।

এমনকি শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রকল্পভিত্তিক কর্মী, আউটসোর্সিং কর্মী এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবধান রয়েছে।

টিবিএসের প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুনের বক্তব্যে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, প্রকল্পভিত্তিক ও আউটসোর্সিং কর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বেসরকারি খাতের কর্মীদের আয় অপরিবর্তিত থাকলে বিভিন্ন পেশার মধ্যে বৈষম্য ও অসন্তোষ বাড়তে পারে।

তাহলে নতুন পে স্কেল কি অযৌক্তিক?

না। দীর্ঘদিন বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আয় কমে যায়। তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবারের শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ বিবেচনায় বেতন সমন্বয়ের যৌক্তিকতা রয়েছে।

কিন্তু একটি সিদ্ধান্ত ন্যায্য হলেই তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না—এমন নয়। বেতন বৃদ্ধি কতটা প্রয়োজনীয়, তার পাশাপাশি অর্থের উৎস, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি, সরকারি-বেসরকারি আয়বৈষম্য এবং সেবার মান উন্নয়নের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে।

সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা।

 বেতন বাড়ুক, কিন্তু বৈষম্য ও দুর্ভোগ না বাড়ুক

নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের বিরক্তির মূল কারণ বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং এর সুফল ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে অনিশ্চয়তা। সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন পর বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাচ্ছেন—এটি তাঁদের জন্য স্বস্তির খবর। কিন্তু একই সময়ে বেসরকারি কর্মী, শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র আয়ের পরিবার যদি মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে আরও পিছিয়ে পড়ে, তাহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ বাড়বে।

রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত প্রশাসনের বেতন বাড়লে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই উন্নত সেবা, কম দুর্নীতি এবং দ্রুত কাজের প্রত্যাশা করবে। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

সুতরাং নতুন বেতন কাঠামোর সাফল্য শুধু সরকারি কর্মচারীদের হাতে কত টাকা যাচ্ছে, তা দিয়ে বিচার করা যাবে না। বিচার করতে হবে—এতে তাঁদের জীবনমান কতটা উন্নত হচ্ছে, অর্থনীতির ওপর চাপ কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকছে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা কতটা ভালো পাচ্ছে।

মানুষের প্রত্যাশা একটাই—সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ুক, কিন্তু সেই বেতন বৃদ্ধির বোঝা যেন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন না করে।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত