জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘শাস্তির হুমকি’ প্রত্যাখ্যান করে শনিবার (২৮ জুন) ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
শুক্রবার (২৭ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ঐক্য পরিষদ বলছে, শনিবার সারা দেশের আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তর থেকে এনবিআর অভিমুখে ‘শান্তিপূর্ণ মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালিত হবে। একই সঙ্গে এদিন থেকে দেশের আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে লাগাতার কমপ্লিট শাটডাউন যথারীতি চলবে। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এই কমপ্লিট শাটডাউনের আওতাবহির্ভূত থাকবে।
শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আসে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, অফিস ত্যাগ, দেরিতে অফিসে উপস্থিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেও। বিজ্ঞপ্তিতে বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনা এবং রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে এনবিআরের আন্দোলনরত কর্মীদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহবান জানানো হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঐক্য পরিষদের ব্যানারে চলমান আন্দোলনের কারণে অচলাবস্থা নিরসনে বৃহস্পতিবার আড়াই ঘণ্টা আলোচনা হয়। অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ওই সভায় অর্থসচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান ও এনবিআরের ১৬ জন সদস্য অংশ নেন।
তবে বৈঠকে পরিষদের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ঐক্য পরিষদ।
বৈঠক শেষে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত এলে আজকের মধ্যেই একটা সমাধান আসতে পারে। তবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, আগামী সপ্তাহে আরেকটি বৈঠক হবে। তখন একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তবে এনবিআর চেয়ারম্যান ও অর্থ উপদেষ্টার মুখ থেকে আশার কথা শোনা গেলেও নিজেদের দাবি ও কর্মসূচির বিষয়ে অটল থাকেন আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে দুই পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলো।
পরিষদ বলছে, দেশ ও রাজস্বের স্বার্থে পরিষদের রাজস্ব সংস্কার বিষয়ে দাবিগুলো ও এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি জানাতে যেকোনো সময় অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসতে পরিষদ প্রস্তুত। রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে এনবিআর সংস্কার বিষয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।
