ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে এক বিবৃতিতে পেত্রো বলেছেন, ‘‘আমাকে ধরতে আসুন। আমি এখানেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।’’
সতর্ক করে দিয়ে কলম্বিয়ার এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যদি বোমা হামলা চালায়, তাহলে কৃষকরা পাহাড়ে হাজার হাজার গেরিলায় পরিণত হবেন। আর দেশের বড় একটি অংশ যাকে ভালোবাসে ও সম্মান করে—সেই প্রেসিডেন্টকে যদি তারা আটক করে, তাহলে তারা জনগণের ‘বাঘ’কে উন্মুক্ত করে দেবে।”
১৯৯০-এর দশকে সশস্ত্র আন্দোলন থেকে বেরিয়ে আসেন পেত্রো। তিনি দেশটির বামপন্থী গেরিলা ছিলেন। পেত্রো বলেন, ‘‘আমি শপথ করেছিলাম আর কখনও অস্ত্র ধরব না...। কিন্তু মাতৃভূমির জন্য আমি আবার অস্ত্র তুলে নেব।’’
ভেনেজুয়েলায় হামলার পর রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া এমন একজন মানুষের দ্বারা পরিচালিত, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক বিক্রি করছেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘কলম্বিয়াও খুব অসুস্থ, এক অসুস্থ মানুষের হাতে পরিচালিত, যে কোকেন তৈরি ও যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন। আর তিনি এটা খুব বেশি দিন করতে পারবেন না, আমি বলে দিচ্ছি।’’
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলীয় এই নেতা বলেন, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো তার কাছে ‘‘ভালোই শোনায়।’’ রোববার এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটি সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে। তবে রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কে হুমকি বা বলপ্রয়োগকে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে।
গত অক্টোবরে অবৈধ মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পেত্রো ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কলম্বিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোকেন উৎপাদনকারী দেশ। লাতিন আমেরিকার মূলত তিনটি দেশে- পেরু, বলিভিয়া ও কলম্বিয়ায় কোকা গাছের চাষ হয়।
আগস্টে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো ট্রাম্পকে ‘‘আমাকে ধরতে আসুন’’ বলে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র তার গ্রেপ্তারের তথ্যের জন্য পুরস্কারের অঙ্ক বাড়ানোর পর আগস্টে এক ভাষণে মাদুরো বলেছিলেন, ‘‘আমাকে আটক করতে আসুন। আমি মিরাফ্লোরেসে অপেক্ষা করব। দেরি করবেন না, কাপুরুষ।’’
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাদুরোকে বিদ্রূপ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে মাদুরোর বিদ্রুপাত্মক বক্তব্যের দৃশ্য এবং ভেনেজুয়েলার নেতা ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার অভিযানের ফুটেজ দেখানো হয়।
৬১ সেকেন্ডের ওই ক্লিপে ভেনেজুয়েলায় হামলা নিয়ে ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনের দৃশ্যও ছিল; যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, মাদুরোর একটি সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন আর তা নেই।
ভিডিওতে হেগসেথ বলেন, ‘‘তিনি ঝামেলা বাধিয়েছেন। আর তার ফল পেয়েছেন।’’ এই ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে মাদক পাচার ও মাদক-সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাদের বিচার হবে।
সূত্র: এনডিটিভি।
