ভারতের মুখ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ স্থিতিশীল থাকলে সম্পর্ক উন্নত হবে

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

বাংলাদেশে নতুন নির্বাচিত সরকার গঠনের পর ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত হবে-এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ও জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ত্রিপুরা রাজ্যের এক সরকারি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এটি আমাদের সবার জন্যই ভালো খবর। আগামী দিনে যিনিই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিন না কেন, তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমি আশা করি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দৃঢ় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ত্রিপুরার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ আমাদের রাজ্যের তিন দিকেই বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত। অতীতেও আমরা একটি শক্তিশালী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভাগ করে নিয়েছি।’

দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দেশভাগের পর অনেক পরিবার বিভক্ত হয়ে পড়ে। আত্মীয়স্বজন সীমান্তের দুই পাশে বসবাস করতেন। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের নতুন সরকারের অধীনে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও আরও শক্তিশালী হবে, যা বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বের নতুন যুগের সূচনা করবে।’

অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ শের-ই-কাশ্মীর কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক কৃষি প্রযুক্তি উৎসব ‘গোঙ্গুল’ উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো যত বেশি স্থিতিশীল হবে, ততই আমরা লাভবান হব। কেউই যুদ্ধ, সংঘাত বা অস্থিতিশীল প্রতিবেশী চায় না-তা সে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, নেপাল বা অন্য যে কোনো দেশই হোক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি নতুন সরকার গঠনের পর ভারত ও বাংলাদেশ তাদের সম্পর্ক উন্নত করবে, কারণ অতীতে এই সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা দেখা গিয়েছিল।’

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ফোনে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। যদিও ওই ফোনালাপে কী আলোচনা হয়েছে, তা জানা যায়নি।

শুধু ফোনালাপেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। তারেক রহমানের গুলশান কার্যালয়ে ফুল ও মিষ্টিও পাঠান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শুভনন্দন, আমার সকল ভাই-বোনদের, বাংলাদেশের সকল মানুষকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। তাদের সবাইকে আমার অগ্রিম রমজান মোবারক।’

ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বার্তায় বলেন, ‘বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে নির্ণায়ক বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। এই জয় আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার পরিচয় দেয়। ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে এবং আমাদের বহুমুখী সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী।’

HN
আরও পড়ুন