খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে

করাচিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, নিহত ৯

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। দেশটির বন্দরনগরী করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে (দূতাবাস) ব্যাপক হামলা চালিয়েছে উত্তেজিত ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (১ মার্চ) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এবং স্থানীয় গণমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

করাচির উদ্ধারকারী সংস্থা এধি ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন জানান, সংঘর্ষের পর ৯টি মরদেহ করাচির সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগের শরীরেই গুলির চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া আহত আরও ২০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রোববার সকালে কয়েকশ বিক্ষোভকারী করাচির মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হন। এক পর্যায়ে একদল উত্তেজিত যুবক কনস্যুলেটের প্রধান ফটক ও কাঁটাতারের বেষ্টনী টপকে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তারা ভবনের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস ও গুলিবর্ষণ করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে ভবনের জানালায় পাথর ছুড়ছেন। এক বিক্ষোভকারীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা আমাদের নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ নিচ্ছি। কোনো শক্তি আমাদের থামাতে পারবে না।’

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে নিজ দপ্তরে 'দায়িত্ব পালনরত অবস্থায়' যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর থেকেই মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

করাচি ছাড়াও লাহোর এবং উত্তরের স্কার্দু শহরেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কূটনৈতিক জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিকেলে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

FJ
আরও পড়ুন