মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও সরাসরি সংঘাতের আবহে ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে হিজবুল্লাহ মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, ‘ইসরায়েল এই অঞ্চলের শান্তি হরণকারী এক ক্যান্সার।’
বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, গত সাত দশক ধরে ‘ইসরায়েল নামক ক্যান্সার’ এই অঞ্চলকে স্থিতিশীলতা ও শান্তির মুখ দেখতে দেয়নি।
একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা যেকোনো মুখোমুখি ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং শত্রুপক্ষ রণাঙ্গনে তাদের পাল্টা আঘাতে হতবাক হয়ে যাবে।
বার্তা সংস্থা তাসনিম ও পার্স-টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ নাঈম কাসেম ফিলিস্তিনের ওপর জায়নবাদী দখলদারিত্বকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘ঐতিহাসিক জুলুম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, কুদস দিবস কেবল একটি দিন নয়, বরং এটি বিশ্বের শোষিত জাতিগুলোর মুক্তির প্রতীক। ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার এই আহ্বান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই শোষিত মানুষ দাসত্ব ও জুলুমের জোয়াল থেকে মুক্তি পেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের মূল কারণ হিসেবে তিনি ইসরায়েলকে একটি ‘অশুভ বিষবৃক্ষ’ হিসেবে চিত্রায়িত করেন। তাঁর মতে, ৭০ বছর আগে রোপণ করা এই কৃত্রিম রাষ্ট্রটিই আঞ্চলিক দেশগুলোর অগ্রগতির প্রধান অন্তরায়।
তিনি বলেন, “যাদের হাতে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা জিম্মি হয়ে আছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই এখন একমাত্র পথ।”
হিজবুল্লাহর সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে কাসেম বলেন, তাদের মুজাহিদরা শাহাদাতকামী এবং তারা মৃত্যুকে ভয় পায় না। দীর্ঘ ও মুখোমুখি যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, “শত্রুরা আমাদের প্রস্তুতির মাত্রা সম্পর্কে এখনো সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে। রণাঙ্গনে যখন মুখোমুখি লড়াই শুরু হবে, তখন তারা আমাদের রণকৌশল ও শক্তিতে কেবল হতবাকই হবে না, শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাঈম কাসেমের এই ঘোষণা চলমান ইরান-ইসরায়েল সংকটে হিজবুল্লাহর সরাসরি ও পূর্ণ শক্তি নিয়ে অংশগ্রহণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১২ চিকিৎসাকর্মী
