যদি ইরানের দ্বীপসমূহ কিংবা ভূখণ্ডের কোনো অংশে স্থল অভিযান বা নৌ-তৎপরতার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল, তবে তেহরান বাবেল মান্দেব প্রণালিসহ যুদ্ধের আরও কয়েকটি কৌশলগত ফ্রন্ট খুলে দিতে পারে।
বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এই হুঁশিয়ারি প্রচার করেছে।
লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্তকারী এই সমুদ্রপথটি বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রানজিট পয়েন্ট।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই সূত্রটি জানায়, শত্রু পক্ষ যদি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানে, তবে তারা প্রতিআঘাত হিসেবে ‘বিস্ময়কর’ সব নতুন রণক্ষেত্র তৈরি করবে।
তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বাবেল মান্দেব প্রণালির কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে ওই এলাকায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার পূর্ণ সক্ষমতা ও সংকল্প ইরানের রয়েছে। বিশেষ করে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের জন্য এই পথটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সূত্রটি আমেরিকানদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো হঠকারী পদক্ষেপ নেওয়া হলে তাদের চ্যালেঞ্জের তালিকায় আরও একটি নতুন প্রণালি যুক্ত হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে হওয়া মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ এই বাবেল মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের এক-পঞ্চমাংশের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
এর ফলে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এখন যদি বাবেল মান্দেব প্রণালিও হুমকির মুখে পড়ে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে
