ইরান-লেবাননে ৪২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত 

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:২০ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার যত বাড়ছে, ততই গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট। ইরান ও লেবাননে এখন পর্যন্ত ৪২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনিশ্চয়তার এই পরিস্থিতিতে তীব্র হয়ে উঠছে আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা সংকট, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান ও লেবাননে প্রায় ৪২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে নিহতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে, যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

যুদ্ধের ২৭ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার মধ্যে রাজধানী তেহরানসহ দেশের ৮৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিচ্ছেন।

ইউএনএইচসিয়ারের হাই কমিশনার বারহাম সালিহ বলেছেন, ইরানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই একটি গুরুতর মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৬ লাখ থেকে ১০ লাখ পরিবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে, সীমান্তে এখনো বড় ধরনের শরণার্থী প্রবাহ না দেখা গেলেও সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলো।

অন্যদিকে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের হামলায় গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো ধ্বংস হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে করে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে আড়াই লাখের বেশি মানুষ দেশ ছেড়েছে, যাদের অধিকাংশই প্রতিবেশী সিরিয়ার দিকে আশ্রয়ের জন্য পাড়ি জমিয়েছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দক্ষিণ লেবাননে যেতে দেয়া হচ্ছে না। লিতানি নদী আর বৈরুতের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে মানুষ কীভাবে নিজেদের বাড়িতে ফিরবে? বোমা হামলায় রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে কারও পক্ষেই ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আরেকজন বাসিন্দা জানান, মানুষের মধ্যে হতাশা চরমে পৌঁছেছে। যেখানে যাওয়া হচ্ছে, সেখানেই মানবিক ও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, অনেকেই দ্বিতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, আর এবারের পরিস্থিতি আগের চেয়েও বেশি ভয়াবহ।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার লক্ষ্য সীমান্ত এলাকায় একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করা, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

HN
আরও পড়ুন