রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

রাশিয়ার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি-জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নজিরবিহীনভাবে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। বাল্টিক সমুদ্রের প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে শুরু করে গভীর সাইবেরিয়ার সীমান্ত পর্যন্ত ইউক্রেনীয় ড্রোনের এই ধারাবাহিক আক্রমণে চরম চাপের মুখে পড়েছে মস্কো। ক্রমাগত হামলার ভয়ে এখন নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে রাশিয়া।

রুশ কর্তৃপক্ষের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল বাল্টিক সাগরের প্রিমোরস্ক বন্দরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। এস্তোনিয়া ও ফিনল্যান্ডের মাঝামাঝি অবস্থিত এই এলাকাটি রাশিয়ার তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান রুট। 

এর আগে এপ্রিলের শুরুতে বাশকোর্তোস্তানের উফা শহরে ড্রোন হামলায় ‘বাশনেফত-নোভোইল’ তেল শোধনাগারের একটি বড় ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যা পুরো শোধনাগারের ২৮ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করত। এছাড়া কস্তোভস্কি শোধনাগার এবং নোভোহিরকোভস্কায়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রীয় নিশানায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোনের পাল্লা থেকে বাঁচতে ক্রেমলিন এখন তাদের সমরাস্ত্র কারখানাগুলো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম সাইবেরিয়ার ওমস্ক এবং উরাল পর্বতমালার কাছে পার্ম শহরে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ইউনিটগুলো বসানো হচ্ছে। 

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন এখন রাশিয়ার ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি ভেতরে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় মস্কোর উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।

ইউক্রেনের আক্রমণ এখন আর কেবল স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই। ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা অবৈধভাবে তেল পরিবহনকারী ট্যাংকারগুলো লক্ষ্য করেও হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেনীয় কমান্ডোরা। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার মতে, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

রণক্ষেত্রে সংঘাত বাড়লেও শান্তি আলোচনার টেবিলে কোনো অগ্রগতি নেই। চলতি বছর আবুধাবি ও জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক হলেও পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ কাটেনি। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে বর্তমানে সব ধরণের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। সূত্র: ইউক্রেন বিজনেস নিউজ ও রয়টার্স।

FJ
আরও পড়ুন