দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা আলোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এমন একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সক্ষমতাও অর্জনের চেষ্টা করবে না, যা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করবে। আমরা এখনো সেই প্রতিশ্রুতি দেখতে পাইনি। ’
রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
গতকাল শনিবার বিকেলে ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছিল। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আলোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে-এটাই ভালো খবর। তবে খারাপ খবর হলো, আমরা এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে আমাদের সীমারেখা নির্ধারণ করেছি- কোন বিষয়ে আমরা সমঝোতা করতে পারি এবং কোন বিষয়ে পারি না। কিন্তু ইরানের প্রতিনিধিদল আমাদের শর্তগুলো মেনে নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তারা ‘দারুণ আতিথেয়তা’ দেখিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আলোচনায় কোনো ঘাটতি থাকলে তা পাকিস্তানের কারণে নয়। বরং পাকিস্তান আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা করতে।
ইরান ঠিক কোন প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে- এ প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, সব বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাই না, কারণ ২১ ঘণ্টা ব্যক্তিগত আলোচনার পর আমি জনসমক্ষে আলোচনা চালাতে চাই না। তবে সহজভাবে বললে, আমরা এমন একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সক্ষমতাও অর্জনের চেষ্টা করবে না, যা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করবে।
তিনি বলেন, এটিই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এবং এই আলোচনার মাধ্যমে সেটিই অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে।
ভ্যান্স আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হলেও আসল প্রশ্ন হলো-ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সত্যিকারের অঙ্গীকার দেখাবে কি না।
তার ভাষায়, আমরা এখনো সেই প্রতিশ্রুতি দেখতে পাইনি, তবে আমরা আশা করি ভবিষ্যতে তা দেখতে পাব।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং চলমান যুদ্ধ অবসানের মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। তিনি বলেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সফলতা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের সদিচ্ছা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ মেনে নেওয়ার ওপর।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বার্তায় বলেন, তার দেশের প্রতিনিধিদল জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকার জনগণের পাশে থাকবে। সূত্র: দ্য ডন।
ওয়াশিংটনের 'উচ্চাকাঙ্ক্ষী শর্তের' কারণেই আলোচনা ব্যর্থ: ইরান
