নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র দস্যু বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ গ্রামবাসীদের এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। দস্যুদের দাবি করা অবৈধ ‘কর’ বা চাঁদা দিতে গ্রামবাসী অস্বীকৃতি জানালে এই ভয়াবহ সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত শুক্রবার প্রায় ৮০টি মোটরসাইকেলে চড়ে কয়েক ডজন সশস্ত্র দস্যু বুক্কুয়ুম জেলার বুনকাসাউ গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। দস্যুরা গ্রামবাসীদের ওপর জোরপূর্বক কর আরোপ করেছিল। কিন্তু এবার গ্রামবাসী আর মাথা নত না করে দস্যুদের মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়।
বুক্কুয়ুমের স্থানীয় নেতা লাওয়ালি উমর জানান, দস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীদের ওপর অন্যায়ভাবে কর চাপিয়ে আসছিল। গ্রামবাসী এতে অতিষ্ঠ হয়ে চাঁদা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই টাকা দিয়ে নিজেদের রক্ষার জন্য অস্ত্র কেনে।
প্রতিবেশী গ্রামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বাবুগা আহমদ জানান, গ্রামবাসী বীরত্বের সাথে দস্যুদের মোকাবিলা করছিল। তবে দীর্ঘ সময় বন্দুকযুদ্ধ চলার একপর্যায়ে গ্রামবাসীদের গোলাবারুদ শেষ হয়ে যায়। এই সুযোগে দস্যুরা পূর্ণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়।
জামফারা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ইয়াজিদ আবুবকর এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িত দস্যুদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে সশস্ত্র ডাকাত ও দস্যু দলের উৎপাত চরম আকার ধারণ করেছে। গ্রামগুলোতে হামলা, লুটতরাজ ও অপহরণ সেখানে নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সূত্র: এএফপি
হাইতির ঐতিহাসিক দুর্গে পদদলিত হয়ে নিহত ৩০
ত্রিমুখী অর্থনৈতিক সংকটে শ্রীলঙ্কা
