ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। একদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর তাদের নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর রয়েছে, অন্যদিকে তেহরান এই পদক্ষেপের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যেই হোয়াইট হাউজ এবং আন্তর্জাতিক মহল একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে।
ইরানের সাথে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হতে পারে জানিয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আবারও এই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাক চ্যানেল বা গোপন কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এই বৈঠকের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এপি’কে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা অবসানে পাকিস্তানের নেতৃত্ব হাল ছাড়ছে না।
এদিকে শান্তি আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে এবং মার্কিন পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গত সাত সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। শিপিং বা জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়া এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপে কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে ওয়াশিংটনে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই বৈঠককে অত্যন্ত 'ইতিবাচক' ও 'গঠনমূলক' বলে আখ্যা দিয়েছে। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার বলেছেন, হিজবুল্লাহর হাত থেকে লেবাননকে মুক্ত করার বিষয়ে দুই দেশই মুদ্রার এক পিঠে অবস্থান করছে। তবে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। হোয়াইট হাউজের মতে, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল বড় বাধা। বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত লেবাননের ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে ৩,০০০, লেবাননে ২,১০০ এবং ইসরায়েলে ২৩ জনসহ কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ১৩ জন মার্কিন সেনাও এই সংঘাতে নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় একটি জাহাজও ইরানের বন্দর থেকে বের হতে বা প্রবেশ করতে পারেনি। অন্তত ৬টি বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনী নির্দেশ দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে। এই অবরোধের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা। ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই গোপনে এশিয়ায় বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করে আসছিল, যা তাদের যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রেখেছে। হরমজ প্রণালীতে এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল, যার প্রভাব পড়ছে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের ওপর।
ভবিষ্যৎ এখন ইসলামাবাদে হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফা বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে। অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টিই এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
চীনের জ্বালানি ঘাটতি মেটাবে রাশিয়া: লাভরভ
নৌ-অবরোধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জুয়া, ঝুঁকিতে বিশ্ব জ্বালানি বাজার