তুরস্কে দুই স্কুলে গোলাগুলি, ছাত্র-শিক্ষকসহ নিহত ৯

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ হামলায় অন্তত ৮ জন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) তুরস্কের কাহরামানমারাস এলাকার আইসার চালিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফচি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তুর্কি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলাকারী ওই বিদ্যালয়েরই ১৪ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থী। সে পাঁচটি বন্দুক এবং সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে দুটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে অতর্কিত গুলি চালাতে শুরু করে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণভয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলের দোতলার জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে পালাচ্ছে। পরে পুলিশের অভিযানে ১৪ বছর বয়সী ওই হামলাকারী কিশোরও নিহত হয়।

স্থানীয় গভর্নর মুকেরেন উনলুয়ের জানিয়েছেন, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো ওই ছাত্রের বাবার ছিল। অভিযুক্তের বাবা একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। নিজের নিরাপত্তা ও পেশাগত কাজের জন্য রাখা এই অস্ত্রগুলো কিশোর ছেলে কীভাবে হাতে পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হামলাকারীর বাবাকে হেফাজতে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার মাত্র একদিন আগেই তুরস্কের দক্ষিণে আরেকটি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সাবেক ছাত্র গুলি চালিয়ে ১৬ জনকে আহত করেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কাহরামানমারাসে এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল। আগের দিনের ওই হামলাকারী গুলি চালানোর পর নিজেই আত্মহত্যা করেছিলেন।

তুরস্কের সরকার এই ধরণের স্কুল সহিংসতার ঘটনার নেপথ্যে কোনো মনস্তাত্ত্বিক না কি অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। টানা দুই দিনের এই ট্র্যাজেডিতে তুরস্কজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

FJ
আরও পড়ুন