ভারতের লোকসভায় নারী আসন সংরক্ষণ বিল পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার। গত ১২ বছরের শাসনকালে এই প্রথম মোদি সরকারের কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পার্লামেন্টে আটকে গেল। নারীদের ক্ষমতায়নের আড়ালে দেশের নির্বাচনী এলাকা পুনর্নির্ধারণ বা ‘ডিলিমিটেশন’-এর বিতর্কিত শর্ত জুড়ে দেওয়ার অভিযোগে বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে এই বিলের বিরোধিতা করেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লোকসভায় বিলটি পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় সেই সমর্থন অর্জনে ব্যর্থ হয় সরকার। ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, বিজেপি সরকার নারীদের ক্ষমতায়নের দোহাই দিয়ে আসলে ভারতের নির্বাচনী এলাকা নতুন করে বিন্যাস করতে চাইছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিরোধীরা একে ‘গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ’ এবং ‘পিছনের দরজা দিয়ে ডিলিমিটেশন কার্যকর করার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র একে গণতন্ত্রের ওপর প্রকাশ্য হামলা বলে বর্ণনা করেছেন।
ডিলিমিটেশন ইস্যুটি ভারতের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের রাজ্যগুলোর মধ্যে চরম বিভেদ তৈরি করেছে। তামিলনাড়ু ও কেরালার মতো দক্ষিণের উন্নত রাজ্যগুলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ায় তাদের আশঙ্কা, নতুন সীমানা নির্ধারণ করা হলে তাদের আসন সংখ্যা কমে যাবে এবং তারা রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে। অন্যদিকে, বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলোর আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এই বৈষম্যের প্রতিবাদে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন পার্লামেন্টের বাইরে বিলটির কপি পুড়িয়েছেন এবং তার দলের এমপিরা কালো পোশাক পরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিলটিকে ‘জাতীয় স্বার্থে’ দেখার আহ্বান জানালেও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একে নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তনের কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিরোধী এমপি শশী থারুর অভিযোগ করেছেন যে, ভারতের নারীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকে সরকার একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক বিষয়ের সাথে জড়িয়ে জিম্মি করে ফেলেছে। শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর নজিরবিহীন ঐক্য এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে এই বিলটি মুখ থুবড়ে পড়ে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধাপ নামলো ভারত