পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া ইমেইল

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

ইরান যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে টানাপোড়েনের আবহেই নতুন করে সামনে এসেছে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব ইস্যু। পেন্টাগনের এক ফাঁস হওয়া ইমেইলকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও ব্রিটেন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাজ্যের হাতেই থাকবে, এ অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর মুখপাত্র বলেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান দীর্ঘদিনের এবং তা অপরিবর্তিত। এই বার্তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নীতিগত পুনর্বিবেচনার গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ একটি ইমেইলে ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যথেষ্ট সহায়তা না দেওয়ায় কিছু মিত্র দেশের ওপর চাপ প্রয়োগের চিন্তা চলছে। এর অংশ হিসেবে ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেনের দাবির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথাও আলোচনায় এসেছে।

এছাড়া স্পেনকে ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার প্রস্তাবও ওই তালিকায় ছিল বলে জানা যায়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

প্রতিক্রিয়ায় সানচেজ বলেন, সরকার কোনো ইমেইলভিত্তিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে না; বরং আনুষ্ঠানিক নথি ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই কাজ করে। তিনি স্পষ্ট করেন, মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, তবে তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের বারবার সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার আগে মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ না করা এবং পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে নৌ সহায়তা না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধপূর্ণ এলাকা। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক শাসক লিওপোলদো গালতিয়েরি এর নির্দেশে দ্বীপগুলোতে আগ্রাসন চালানো হলে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ১০ সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ হয়, যা ইতিহাসে 'ফকল্যান্ড যুদ্ধ' নামে পরিচিত।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত, ২০২৪ সালে ঘোষণা দেন যে তার সরকার ফকল্যান্ড ইস্যুতে আর্জেন্টিনার দাবিকে এগিয়ে নিতে একটি রোডম্যাপ তৈরি করবে। সূত্র: সিএনএন

AS/FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত