এবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ডের সকল সদস্যকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই শীর্ষ বিজ্ঞান সংস্থার নীতি নির্ধারণী বোর্ডের ২২ জন সদস্যকেই কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন-এর নীতি নির্ধারণী ও উপদেষ্টা শাখা হিসেবে কাজ করে এই বোর্ড। সম্প্রতি শিক্ষা বিভাগ এবং ইউএসএআইডি-এর মতো সংস্থাগুলোতে বড় ধরনের রদবদলের পর বিজ্ঞানের এই শীর্ষ সংস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে ‘আমূল সংস্কার’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বোর্ডের সাবেক সদস্য রজার বিচি জানিয়েছেন, বরখাস্তের ইমেইলটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। সেখানে তাদের এই বিদায়ের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, কেবল ‘সেবার জন্য ধন্যবাদ’ জানানো হয়েছে। রজার বিচিকে ২০২০ সালে খোদ ট্রাম্পই দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগামীতে এই সংস্থাটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের কবলে পড়বে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের বিজ্ঞান কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জো লফগ্রেন এক বিবৃতিতে একে ‘ভয়াবহ বোকামি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রেসিডেন্ট কি এখন এই বোর্ডকে তার অনুগত ‘মাগা’ (MAGA) সমর্থকদের দিয়ে পূরণ করবেন? লফগ্রেন সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপ মার্কিন বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী নেতৃত্বকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে তুলে দেওয়ার শামিল।
যদিও হোয়াইট হাউস বা এনএসএফ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি অভাবনীয় নয়। গত বছর টেক বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’-এর ব্যয় সংকোচন অভিযানের অধীনে এনএসএফ-এর প্রায় ১ হাজার ৬০০টি গবেষণা অনুদান বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছিল, যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার।
১৯৫০ সালে একটি স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এনএসএফ বৈশ্বিক বিজ্ঞানের অন্যতম বড় অর্থদাতা। ২০২৫ সালে সংস্থাটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষার পেছনে ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। এখন নতুন বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কোন দিকে মোড় নেয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
যেকোনো সময় বরখাস্ত হতে পারেন এফবিআই প্রধান প্যাটেল