কে এই পুলিশ অফিসার অজয় শর্মা, যার ভয়ে কাঁপছে অপরাধীরা

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

ভারতের উত্তরপ্রদেশের দুর্ধর্ষ পুলিশ অফিসার অজয় পাল শর্মা এখন পশ্চিমবঙ্গে। তাকে বলা হয় ইউপি-র ‘সিংহাম’। দাপুটে এই আইপিএস অফিসার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পা রাখতেই শুরু হয়েছে তোলপাড়। সম্প্রতি তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারীদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়ার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকেই সবার মনে প্রশ্ন— কে এই অজয় শর্মা, যাকে নিয়ে এখন উত্তাল গোটা রাজ্য

দাঁতের ডাক্তার থেকে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’

অজয় পাল শর্মার জন্ম পাঞ্জাবের লুধিয়ানায়। মজার ব্যাপার হলো, কঠোর এই পুলিশ অফিসার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন একজন দন্তচিকিৎসক (ডেন্টিস্ট) হিসেবে। পরে বাবা-মায়ের উৎসাহে ২০০৮ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আইপিএস অফিসার হন। তার ছোট ভাইও একজন আইএএস অফিসার।

উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ‘ক্রাইম-মুক্ত’ রাজ্য গড়ার মিশনে অজয় পাল শর্মা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। শামলি, নয়ডা, জৌনপুর এবং রামপুরে পোস্টিং থাকাকালীন তিনি বহু হাই-রিস্ক অপারেশন পরিচালনা করেছেন। তার অধীনে অন্তত ৯ জন অপরাধী এনকাউন্টারে নিহত এবং প্রায় ১৯০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। এই ইমেজের কারণেই তাকে ‘ইউপি-র সিংহাম’ বা ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ বলা হয়।

বেঙ্গল এন্ট্রিতেই উত্তাপ

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাটি তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেখানে পা দিয়েই নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন ২০১১ ব্যাচের এই তুখোড় অফিসার। সম্প্রতি ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের অনুসারীরা ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে—এমন অভিযোগ পেয়ে সেখানে সশরীরে হাজির হন অজয় শর্মা। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, জাহাঙ্গীরকে বলে দেবেন, তার লোকেরা যদি ভোটারদের ভয় দেখায়, তবে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। তখন যেন কান্নাকাটি বা আফসোস না করা হয়।

এমনকি তিনি সরাসরি জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে গিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আসেন। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছে, বেঙ্গল উত্তরপ্রদেশ নয়। যোগীর পছন্দের এই ‘ট্রিগার হ্যাপি কাউবয়’ যেন সীমা লঙ্ঘন না করেন।

বিতর্ক ও দুর্নীতি দমন

অজয় শর্মার ক্যারিয়ার যেমন বীরত্বে ভরা, তেমনি বিতর্কেও ঘেরা। ২০২০ সালে শামলিতে একটি ‘ভুয়া এনকাউন্টার’-এর অভিযোগ তুলেছিল সমাজবাদী পার্টি। এছাড়া রামপুরে এসপি থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূল এবং অখিলেশ যাদব তাকে ‘বিজেপি এজেন্ট’ এবং ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে তোপ দাগলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ফেসবুকে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার।

কেন আলোচনায় অজয় শর্মা?

কেবল অপরাধী নয়, নিজের বাহিনীর কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি করার জন্যও তিনি বিখ্যাত। একবার সাধারণ পোশাকে অটোতে ঘুরে তিনি এক সাব-ইন্সপেক্টরকে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে বরখাস্ত করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে অজয় পাল শর্মার এই মারকুটে মেজাজ নির্বাচনকে নতুন এক মোড় দিয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

YA
আরও পড়ুন