১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ওসলো চুক্তি (Oslo Accords) সম্পূর্ণ বাতিল করার লক্ষ্যে একটি বিতর্কিত বিল আজ রোববার (১০ মে) ইসরায়েলি মন্ত্রিপরিষদ কমিটির (Ministerial Committee for Legislation) সভায় পর্যালোচনার কথা রয়েছে। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী দল ‘ওতজমা ইয়েহুদিত’ (Otzma Yehudit)-এর সংসদ সদস্য লিমোর সোন হার-মেলেচ এই বিলটি উত্থাপন করেছেন।
এই প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য হলো ১৯৯৩ সালের ওসলো চুক্তি, হেবরন প্রটোকল এবং ওয়াই রিভার মেমোরেন্ডামসহ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (PA) সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব ধরনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা। বিলটিতে দাবি করা হয়েছে যে, ওসলো চুক্তি শান্তির বদলে ‘সন্ত্রাসবাদ’ ডেকে এনেছে এবং এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
বিলটির সহ-উদ্যোক্তা লিমোর সোন হার-মেলেচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আমরা একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন প্রতিরোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এখন সময় এসেছে ওসলো চুক্তি বাতিল করে পশ্চিম তীরের ‘এ’ এবং ‘বি’ অঞ্চলে (যা বর্তমানে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের অধীনে) ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা।” ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও সম্প্রতি একই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার এবং পুরো পশ্চিম তীরে পূর্ণ ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
যদি এই বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) পাস হয়, তবে তা গত তিন দশকের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে গণ্য হবে। এটি কেবল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আইনগত ভিত্তিকেই চ্যালেঞ্জ করবে না, বরং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের (Two-state solution) আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকেও পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেবে। আন্তর্জাতিক মহলে এই বিলটি নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ এটি অধিকৃত ভূখণ্ডে নতুন করে সংঘাতের দাবানল জ্বালিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একদিনেই নিহত ৩৯