মার্কিন শান্তি পরিকল্পনায় ইরানের ইতিবাচক সাড়া

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০৮:২১ এএম

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার বিপরীতে নিজেদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। একজন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, তাদের এই জবাব অত্যন্ত ‘বাস্তবসম্মত এবং ইতিবাচক’। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের এই পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতে পারে।

ইরানের দেওয়া এই নতুন প্রস্তাবনাটি মূলত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মতপার্থক্য নিরসনেও তেহরান নমনীয়তা দেখিয়েছে। ইরানের এই প্রতিক্রিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা এবং সম্পূর্ণভাবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

তবে ইরান এবার আলোচনার ক্ষেত্রে কিছু কঠোর শর্তও জুড়ে দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য একটি স্বচ্ছ এবং নিশ্চিত পদ্ধতি থাকতে হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি হলে তা যেন কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার ওপর জোর দিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, অতীতে বিভিন্ন চুক্তির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই তারা এবার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, ইরানের এই অবস্থান সম্পূর্ণভাবে দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদেশগুলোর সাথে দীর্ঘ আলোচনার ফল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ‘ইতিবাচক’ সাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের এই শর্তগুলো ওয়াশিংটন কতটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। তবে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট কাটিয়ে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানো।

সূত্র: আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন