হরমুজ নিয়ে ইরানের পরিকল্পনায় ভূরাজনৈতিক চাপে ওমান

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১১:১৯ এএম

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এবং এই পথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বিশেষ কর বা ফি বসানোর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে- ইরানের পক্ষ থেকে এমন তথ্য ফাঁসের পর তীব্র ভূরাজনৈতিক চাপে পড়েছে ওমানের রাজধানী মাসকাট।

এই বিরোধপূর্ণ জলপথের দক্ষিণ তীরে ওমানের মুসান্দাম ছিটমহল অবস্থিত, যা বৈশ্বিক সামুদ্রিক জ্বালানি তেল পরিবহনের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে দীর্ঘ ১০ সপ্তাহ ধরে এই আন্তর্জাতিক রুটটি অবরুদ্ধ রয়েছে। ওমানের নীরবতার সুযোগে ইরানের এই একক পরিকল্পনার পর পশ্চিমা দেশগুলো ওমানের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে।

শুক্রবার ভারতের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ওমান ও ইরানের নিজস্ব জলপথ। প্রণালিটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশ যৌথভাবে একটি রূপরেখা তৈরি করছে বলেও জানান তিনি। তবে জাহাজের ওপর ফি আদায় এবং সব জাহাজের মালিকানা সংক্রান্ত গোপন তথ্য চাওয়ার বিষয়ে ওমান সরকার এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিশ্চুপ রয়েছে।

পশ্চিমা কূটনীতিকেরা ইরানের এই নতুন প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ সরাসরি বিতর্কিত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কাছে চলে যাবে, যা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী। ইরানের এই পদক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য একটি যৌথ বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে ওমানের কাছে হস্তান্তর করেছে।

এরই মধ্যে গত ৫ মে ইরান ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি (পিজিএসএ)’ নামে একটি বিশেষ সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে, যার মাধ্যমে তারা এই রুটকে একটি লাভজনক মাধ্যমে পরিণত করতে চায়। এখন থেকে প্রণালিটি পার হওয়ার অনুমতি পেতে জাহাজগুলোকে অগ্রিম নিবন্ধন করতে হবে এবং প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ফি পরিশোধ করতে হবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই বেআইনি ফি যারা দেবে, তারা গভীর সমুদ্রে মার্কিন নৌবাহিনীর কারণে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না। ওমানের উপকূলীয় এই আন্তর্জাতিক জলপথে টোল আদায়ের কোনো আইনি অধিকার আছে কি না, সেটাই এখন এই প্রণালিটি পুনরায় চালুর প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

SN
আরও পড়ুন