ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তা ইউরোপসহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো।
একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসকে দ্রুত এই সংঘাত অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন জোটের অর্থমন্ত্রীরা।
সংবাদ মাধ্যম ‘ইরনা’র বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানায়, সম্প্রতি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের দু’দিনব্যাপী একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই ওয়াশিংটনকে যুদ্ধের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কা
জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে। বৈঠকে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়:
জ্বালানি সংকট: সামরিক সংঘাতের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইউআই) তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনৈতিক মন্দা: তেলের লাগামহীন মূল্যের কারণে ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে।
খাদ্য সংকট: পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এই অর্থনৈতিক ধাক্কা শেষ পর্যন্ত একটি গুরুতর বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
"মার্কিন রণতরীগুলোকে অকার্যকর করে দিয়েছে ইরান" — রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ
এদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং মার্কিন কৌশলগত অবস্থান নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ল’ ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার স্তেপানভ।
রুশ বার্তা সংস্থা 'তাস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরান কার্যত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর আক্রমণ করার ক্ষমতাকে অচল বা অকার্যকর করে দিয়েছে।
রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার স্তেপানভ বলেছেন, ‘ইরানের শক্তিশালী অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার (Anti-ship missile system) যে পাল্লা বা রেঞ্জ রয়েছে, তা বিবেচনা করলে তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ব্যবহার করে সফল হামলা চালানো বর্তমানে কার্যত অসম্ভব।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ইরান-বিরোধী সামরিক তৎপরতা শুধু ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণই পাল্টাচ্ছে না, বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এক দীর্ঘমেয়াদি মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জি-৭-এর এই হুঁশিয়ারি তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।