পশ্চিমবঙ্গে ‘পুশব্যাক’ শুরু

অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে বাংলাদেশে: শুভেন্দু অধিকারী

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০১:৫৬ এএম

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এবার শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি নিল রাজ্য সরকার। 

বুধবার থেকে রাজ্য জুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ‘পুশব্যাক’ বা সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া বার্তার কথা জানান। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

যেভাবে কাজ করবে ‘পুশব্যাক’ প্রক্রিয়া

শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, অনুপ্রবেশ রোধে রাজ্য পুলিশকে এখন থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পুশব্যাক প্রক্রিয়ার রূপরেখা নিয়ে তিনি বলেন:

শনাক্তকরণ ও আটক: যাদের কাছে বৈধ নথিপত্র নেই এবং যারা ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবেন না, পুলিশ প্রথমে তাদের চিহ্নিত করে আটক করবে।

বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর: আটককৃতদের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) হাতে তুলে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশে ফেরত: বিএসএফ পরবর্তীতে নির্ধারিত কূটনৈতিক ও সীমান্ত প্রোটোকল মেনে তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (BGB) কাছে হস্তান্তর বা ফেরত পাঠাবে।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই নীতি দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হিন্দু উদ্বাস্তুদের উদ্বেগের কারণ নেই: আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী

শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে বহু বছর আগে চলে আসা হিন্দু উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর মনে নতুন করে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই অভিযানের কারণে তাদেরও হেনস্থার শিকার হতে হতে পারে।

তবে এই আতঙ্ক উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) আওতায় থাকা মানুষদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন:

"বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে যে সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তারা নির্ধারিত নিয়মেই ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সিএএ (CAA) এর আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষ যদি ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করে থাকেন, তবে তাদের কোনোভাবেই আটক বা হয়রানি করা হবে না। তবে এই সময়সীমার পরে আসা এবং নির্দিষ্ট নিয়মের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবেই গণ্য করা হবে।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক

মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য:

বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, হুট করে এমন সিদ্ধান্ত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু পরিবারের নাগরিকত্ব ও পরিচয়কে সংকটে ফেলবে। এর ফলে একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় বা সংকট তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিজেপি-র পাল্টা যুক্তি:

অন্যদিকে, শাসকদল বিজেপি এই সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি দীর্ঘদিনের ও জটিল সমস্যা। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করতে এবং সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ‘পুশব্যাক’ নীতি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

এই সিদ্ধান্তের পর সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

HN
আরও পড়ুন