তুরস্কে বন্ধ করা হচ্ছে ইসরায়েলের ইস্তাম্বুল কনস্যুলেট 

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০৪:২৩ এএম

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত নিজেদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক কনস্যুলেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে ইসরায়েল। 

সম্প্রতি একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত এপ্রিল মাসে ওই কনস্যুলেট ভবন লক্ষ্য করে একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

আঙ্কারা দূতাবাস চালু থাকলেও কূটনীতিক শূন্য

কনস্যুলেট বন্ধের আলোচনা চললেও তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসটি অবশ্য চালু থাকবে। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-হামাস সংঘাত শুরুর পর নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সেখান থেকে সমস্ত কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে দূতাবাসটিতে কোনো ইসরায়েলি কূটনৈতিক কর্মী নেই।

একইভাবে, ইস্তাম্বুলের বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত এই কনস্যুলেট ভবন থেকেও কূটনীতিকদের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই দুটি মিশনই কেবল স্থানীয় তুর্কি কর্মীদের মাধ্যমে কোনোমতে পরিচালিত হচ্ছে।

কেন বন্ধ হচ্ছে এই ঐতিহাসিক কনস্যুলেট?

কনস্যুলেটটি পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে ইসরাইলি সূত্রটি জানায়, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। মূলত দুটি কারণে এটি বন্ধের আলোচনা হচ্ছে:

ভূমিকম্পের ঝুঁকি: ভূমিকম্পের আগাম প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে যে ভবনে কনস্যুলেটটি অবস্থিত, সেটি ভেঙে ফেলার একটি পরিকল্পনা রয়েছে।

বিপুল রক্ষণাবেক্ষণ খরচ: নিজস্ব মালিকানাধীন এই খালি ভবনটি কূটনীতিকহীন অবস্থায় রক্ষণাবেক্ষণ করতে ইসরাইলের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। যুদ্ধকালীন বাজেটের মধ্যে এই বিপুল খরচ নিয়ে ইসরাইলি প্রশাসনের ভেতরেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

গত এপ্রিলে কনস্যুলেটে বন্দুক হামলা

এর আগে গত ৭ এপ্রিল ইস্তাম্বুলের এই কনস্যুলেট ভবনের কাছে একটি ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই তুর্কি পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। 

তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিয়ে জানিয়েছে, ধর্মকে পুঁজি করে উগ্রপন্থা ছড়ানো একটি সন্ত্রাসী সংগঠন এই হামলার পেছনে দায়ী। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল ও এএফপি।

HN
আরও পড়ুন