ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে কূটনীতিকে ‘শেষ সুযোগ’ দিতে চান ট্রাম্প

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ১০:২২ এএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে একটি চূড়ান্ত ও শেষ সুযোগ দিতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২০ মে) কানেকটিকাট সফরের উদ্দেশ্যে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। ট্রাম্প এই শান্তি আলোচনাকে ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, আমরা এই প্রক্রিয়াকে একটি শেষ সুযোগ দিতে যাচ্ছি। আমার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কেউ হয়তো মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা ভেবে তাড়াহুড়ো করতে পারে, কিন্তু আমার তেমন কিছু নেই। আদর্শগতভাবে আমি শুধু এটাই চাই, অনেক মানুষের বদলে যেন খুব কম মানুষ মারা যাক। তবে ইরানের শাসকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমার মনে প্রশ্ন জাগে তারা আসলেই জনগণের কল্যাণ চায় কি না। বর্তমানে ইরানে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে, কারণ সেখানকার মানুষ খুব মানবেতর জীবনযাপন করছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার এই যুদ্ধ অবসানের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফরে গিয়ে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইসলামাবাদের আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলেও ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ান, তবে ইরানি বন্দরগামী সব জাহাজের ওপর অবরোধ বহাল রাখেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার অবস্থান একই কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, হ্যাঁ, আমি যা চাইব তিনি তা-ই করবেন। তিনি অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ।

পরবর্তীতে কানেকটিকাটে কোস্ট গার্ড একাডেমির গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনী চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এখন একমাত্র প্রশ্ন হলো আমরা কি সেখানে গিয়ে এটি পুরোপুরি শেষ করব, নাকি তারা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে? দেখা যাক কী হয়। আমরা তাদের ওপর খুব শক্ত আঘাত হেনেছি। হয়তো আরও শক্ত আঘাত হানতে হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেব না, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

SN
আরও পড়ুন