নিজস্ব মজুত নিশ্চিতে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ১০:০৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রের মজুত নিশ্চিত করতে তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন (১ হাজার ৪০০ কোটি) মার্কিন ডলারের একটি বিশাল অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও সেনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন ডিফেন্স সাবকমিটির এক শুনানিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আমেরিকার কমতে থাকা গোলাবারুদের মজুত নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ বাড়লেও, হাং কাও জোর দিয়ে দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনও "প্রচুর" ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর রয়েছে।

শুনানিতে সিনেটর মিচ মারকনেলের এক প্রশ্নের জবাবে হাং কাও বলেন, 'এপিক ফিউরি' অপারেশনের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ যেন পর্যাপ্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতেই আমরা বর্তমানে এই সাময়িক বিরতি দিয়েছি। আমাদের কাছে প্রচুর অস্ত্র আছে। আমরা কেবল সবকিছু নিশ্চিত করে নিচ্ছি। প্রশাসন যখন প্রয়োজন মনে করবে, তখনই এই বৈদেশিক সামরিক অস্ত্র বিক্রি আবার শুরু হবে।

মারকনেল যখন জানতে চান যে এই অস্ত্র বিক্রি শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত হবে কি না, তখন কাও জানান যে বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কাও-এর এমন জবাবে সিনেটর মারকনেল অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, হ্যাঁ, এটাই আসলে বেশ উদ্বেগজনক।

নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের এই মন্তব্যটি মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চীনের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি 'নেগোশিয়েটিং চিপ' বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে তিনি তাইওয়ানের কাছে এই অস্ত্র বিক্রি আটকে রাখতে পারেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি এখনও এটি অনুমোদন করিনি। দেখা যাক কী হয়। আমি এটি করতেও পারি, আবার নাও করতে পারি।

চীন সফর শেষে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এই বিষয়ে তার "বিস্তারিত" আলোচনা হয়েছে এবং তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ১৯৮২ সালে রেগান প্রশাসনের সময় চালুর হওয়া মার্কিন নীতির 'সিক্স অ্যাসিউরেন্স' অনুযায়ী, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে চীনের সাথে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ না করার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে আমেরিকার।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের মজুতে থাকা প্রায় সব দূরপাল্লার স্টিলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া টমাহক, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল, প্রিসিশন স্ট্রাইক এবং এটিএসিএমএস ভূমিতে ব্যবহারযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও প্রায় তলানিতে ঠেকেছে।

গত ১২ সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত (যা এপ্রিলের শুরু থেকে একটি উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রূপ নিয়েছে) এবং এতে ব্যবহৃত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের ঘাটতি মেটাতে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে ৮০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট চাওয়ার পরিকল্পনা করছে। অবশ্য প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই ঘাটতির বিষয়টিকে সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতারা বাড়িয়ে বলছেন বলে দাবি করেছেন।

এদিকে চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন বা বৈরিতা রুখতে ট্রাম্পকে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তাইওয়ানের নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তাইওয়ানের প্রতিনিধি আলেকজান্ডার ইউই গত রবিবার বলেন, আমরা যদি যুদ্ধ থামাতে চাই, তবে তাইওয়ানকে শক্তিশালী হতে হবে, নিজের আত্মরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আর সেই কারণেই একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র কেনার সুযোগ থাকা উচিত। সূত্র: দ্য হিল

আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত