৪ দিনের সফরে চীন পৌঁছালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৮ এএম

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চার দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে চীন পৌঁছেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। 

শনিবার (২৩ মে) তিনি চীনের হাংঝৌ জিয়াওশান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

বিমানবন্দরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের ঝেইজিয়াং প্রদেশের ভাইস গভর্নর জু ওয়েংগুং। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) সূত্রে জানা গেছে, এ সময় পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়াং যাইদং এবং বেইজিংয়ে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত খলিল হাশমিও উপস্থিত ছিলেন।

পাঞ্জাব ও ঝেইজিয়াংয়ের মধ্যে ‘সিস্টার প্রভিন্স’ চুক্তি সই

সফরের শুরুতেই হাংঝৌতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ঝেইঝিয়াং প্রাদেশিক কমিটির সেক্রেটারি ওয়াং হাওয়ের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন শাহবাজ শরিফ। বৈঠক শেষে তাঁর উপস্থিতিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি সই হয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো— পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ এবং চীনের ঝেইজিয়াং প্রদেশের মধ্যে ‘সিস্টার প্রভিন্স’ (Sister Province) সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU)।

এই চুক্তির আওতায় যে বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হবে:

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: দুই দেশের প্রাদেশিক পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার।

কৃষি ও প্রযুক্তি: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির আদান-প্রদান।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি: শিক্ষার্থী বিনিময় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন।

পর্যটন ও যোগাযোগ: দুই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি।

"পাকিস্তান ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তির এই মাহেন্দ্রে দুই দেশের মধ্যে উন্নয়নভিত্তিক, জনকল্যাণমূলক এবং বাস্তবমুখী সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।"
— পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

আলিবাবা সদর দফতর পরিদর্শন ও অর্থনৈতিক বৈঠক

সফরের পরবর্তী অংশগুলোতে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। 

এই লক্ষ্যে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের (CEO) সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন শাহবাজ শরিফ। এছাড়া, চীনের বহুজাতিক প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘আলিবাবা গ্রুপ’-এর সদর দফতর পরিদর্শনেরও কথা রয়েছে তাঁর।

বিশ্লেষকদের মতে, শাহবাজ শরিফের এই সফরের মাধ্যমে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পের গতি যেমন বাড়বে, তেমনি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

HN
আরও পড়ুন