অতিরিক্ত দাবি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে না এলে চুক্তি নয়: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ০৪:২৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ ও ‘পরস্পরবিরোধী অবস্থান’ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। 

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি তাদের এই অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (২৯ মে) ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে এক ফোনালাপে ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনায় বাধা যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের পরিবর্তনশীল মনোভাব ও অতিরিক্ত শর্তারোপ আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। 

আব্বাস আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন, একটি স্থায়ী ও কার্যকর চুক্তি নিশ্চিত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের একগুঁয়েমি পরিহার করতে হবে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের শর্তের তালিকা

এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ একটি পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইরানের সামনে বেশ কিছু কঠোর শর্ত ও দাবি তুলে ধরেন। ট্রাম্পের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

পারমাণবিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা: ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক বোমা বা অস্ত্র তৈরি করবে না।

হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: হরমুজ প্রণালী ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ খুলে দিতে হবে এবং সেখানে থাকা সব ধরনের সমুদ্র মাইন অপসারণ করতে হবে।

ইউরেনিয়াম ধ্বংস: আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) তত্ত্বাবধানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য পারমাণবিক উপকরণ শনাক্ত করে তা ধ্বংস করতে হবে।

ট্রাম্প তার পোস্টে ইঙ্গিত দেন যে, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে আটকে থাকা জাহাজগুলো এখন নিজ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। এছাড়া কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের বৈঠক

চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা জানান ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,

"পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত (ইরানের সঙ্গে) কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। আমি এখন সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে যাচ্ছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।"

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও ধোঁয়াশা

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় সম্মত হয়েছে। তবে কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

অন্যদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা 'তাসনিম' জানিয়েছে, আলোচনা অনেক দূর এগোলেও ঠিক কোন কোন শর্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়বে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 

ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি—চুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করবে; ট্রাম্পের একপাক্ষিক ঘোষণায় কোনো চুক্তি কার্যকর হবে না।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত