যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে একটি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আমি এখন সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসছি, যাতে (ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে) একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।”
চুক্তির জন্য ট্রাম্পের ৪টি প্রধান শর্ত
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যেকোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ট্রাম্প মূলত চারটি প্রধান শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে অবশ্যই নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে:
পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ: ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে সম্পূর্ণ খুলে দিতে হবে।
মাইন অপসারণ: জলপথে বা সমুদ্রে পাতা সব মাইন ইরানকে ধ্বংস করতে হবে।
ইউরেনিয়াম হস্তান্তর: ইরানের কাছে থাকা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার এবং তা ধ্বংস করার সুযোগ দিতে হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই বিষয়গুলো নিশ্চিত না হওয়া এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন বা অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে না। তবে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়ে ইতিমধ্যে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের
ট্রাম্পের এমন দাবির বিপরীতে ভিন্ন সুর শোনা গেছে তেহরানের কণ্ঠে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন:
"ইরান এই মুহূর্তে মূলত যুদ্ধ অবসানের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে এখানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।"
প্রেক্ষাপট: হামলা ও যুদ্ধবিরতি
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতায় গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর থেকেই ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, দুই পক্ষ একটি ঐতিহাসিক চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
তবে সম্প্রতি এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা চুক্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে জটিলতার মুখে ফেলেছে।
ঈদ আনন্দে ঘুরতে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বন্ধু নিহত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ
যুক্তরাষ্ট্রের কথায় আস্থা নেই, কাজে প্রমাণ দিতে হবে