চীনের শীর্ষ কূটনীতিক

কানাডার সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে

আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ০৮:১১ এএম

দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে কানাডার সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছে চীন। 

দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপ আবারও শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

শনিবার (৩০ মে) বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্বরাজনীতিতে একে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি বড় ও ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্ক জোরদারের নতুন অধ্যায়

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেইজিং ও অটোয়ার মধ্যকার বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে গত জানুয়ারি মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার পর এই পরিবর্তনের হাওয়া আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

অন্যদিকে, একই সময়ে কানাডার ঐতিহ্যগত মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অটোয়ার সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হতে দেখা গেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই কানাডা সফরে যান। বিগত এক দশকের মধ্যে এটিই কোনো চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম কানাডা সফর।

বহুমাত্রিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তি

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে ওয়াং ই বলেন,

"আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন যাত্রার সূচনা করেছে। সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে। এছাড়া উভয় পক্ষের প্রধান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্বেগগুলোরও একটি যথাযথ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।"

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশই এখন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়েছে।

বাণিজ্যিক নমনীয়তা ও অতীতের তিক্ততা

কূটনৈতিক এই সমঝোতার অংশ হিসেবে চলতি বছর বেইজিং কানাডার বেশ কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে। 

এর বিপরীতে, অটোয়া বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় চীন থেকে কয়েক হাজার বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) আমদানির সবুজ সংকেত দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কানাডায় হুয়াওয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর বেইজিং পাল্টা ব্যবস্থা নিলে দুই দেশের সম্পর্কে চরম ধস নামে। 

পরবর্তীতে ২০১৯ এবং ২০২১ সালের কানাডার সাধারণ নির্বাচনে চীনের বিরুদ্ধে 'ভোট হস্তক্ষেপের' অভিযোগে এই উত্তেজনা আরও চরম রূপ নেয়; যদিও বেইজিং শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। 

বর্তমান এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

HN
আরও পড়ুন