রেকর্ডভাঙা দাবদাহ আর টানা তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো ইউরোপ। গত রোববার ও সোমবারে ফ্রান্সে প্রচণ্ড গরমে ও গরমজনিত কারণে দুই শিশুসহ অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তরের বরাতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অন্যতম প্রধান বন্দরনগরী বোর্দেওক্সে গত দুই দিনে তাপমাত্রা ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকেছে, যা এই শহরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এই ঐতিহাসিক দাবদাহে শহরটিতে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী ৩ জন প্রবীণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কার্পেন্ত্রাস জেলায় তীব্র গরমের মধ্যে অসাবধানতাবশত গাড়ির ভেতর আটকে পড়ে যথাক্রমে ২ ও ৪ বছর বয়সী দুটি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।
বাকি ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। তীব্র গরমে একটু শীতলতার খোঁজে মানুষ যখন সাগর, নদী ও হ্রদে ভিড় জমাচ্ছেন, তখনই এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। ফ্রান্সের বেসামরিক নিরাপত্তা পরিষেবা বিভাগের মুখপাত্র জেরোম বওল্যাঙ্গার এই তথ্য নিশ্চিত করে রয়টার্সকে জানান, তারা জনগণকে বারবার শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে থাকা নিরাপদ জলাশয়গুলোতে সাঁতার কাটার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে দেশটির স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
চলতি জুনে গরমের এই মরণকামড় শুধু ফ্রান্সে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে স্পেনেও। স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় স্যান সেবাষ্টিয়ান প্রদেশটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত শীতল এলাকা হিসেবে পরিচিত, যেখানে ভরা গ্রীষ্মেও তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে। অথচ গতকাল ২২ জুন সেখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস!
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইউরোপের ওপর জেঁকে বসা এই বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতিকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ওমেগা ব্লক’ বলা হয়। এটি এমন এক বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা, যেখানে একটি বিশাল অঞ্চলের মাঝখানে গরম বাতাসের একটি গম্বুজ বা স্ফীতি তৈরি হয় এবং এর দুই পাশে থাকে শীতল বাতাস।
বর্তমান ওমেগা ব্লকটি উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে প্রচণ্ড গরম বাতাস টেনে ইউরোপের দিকে নিয়ে আসছে। অত্যন্ত ধীরগতির হওয়ায় এই উষ্ণ বায়ুস্তরটি এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে, যার ফলে স্বস্তিদায়ক কোনো হাওয়া বইছে না। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বজুড়ে এই ধরনের তাপপ্রবাহ ও আবহাওয়ার চরম রূপ নিচ্ছে।
এবার ভারতে বাণিজ্যিক ভবনে আগুন, নিহত ১৪
৭৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে ধেয়ে আসছে প্রলয়ঙ্করী ‘এল নিনো’