টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানি গণমাধ্যমের সূত্রমতে, দেশটির সিরিক, জাস্ক, তাবরিজ ও চাবাহারসহ একাধিক স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাদের আরও এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এর ফলে এ নিয়ে চলতি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ১৭ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারালেন এবং চার শতাধিক আহত হলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'আইআরআইবি' জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মাহশাহর এবং ইমাম খোমেনি এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক ও জাস্ক এবং বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ শহরের কাছেও হামলা হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিমের তাবরিজ শহরের কাছে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বে সিসস্তান ও বেলুচেস্তান প্রদেশের কোনারাক এবং চাবাহার শহরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। মার্কিন হামলার কেন্দ্রবিন্দু মূলত ইরানের দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চল হলেও, তাবরিজে এটিই প্রথম আক্রমণ বলে জানা গেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রনালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এই সর্বশেষ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মার্কিন হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইরানি গণমাধ্যম লুরেস্তান প্রদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, কুয়েত জানিয়েছে তারা বেশ কিছু 'শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন হুমকি' নস্যাৎ করেছে। দেশটির একটি সুপেয় পানি শোধন কেন্দ্রে (ডি-স্যালাইনেশন প্ল্যান্ট) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালানো হয়েছে, যা বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সরাসরি আঘাত বলে চিহ্নিত করেছে কুয়েত সরকার। এছাড়া জর্ডানের আকাশে ইরানের তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নির্দেশিত উপায়ে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।
হরমুজ প্রনালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে দু'পক্ষের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রাখছে। অন্যদিকে, তেহরানের স্পষ্ট বক্তব্য—হরমুজ প্রনালি অতিক্রমের নির্ধারিত নিয়ম অমান্যকারী যেকোনো নৌযানে তারা আঘাত হানবে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, মার্কিন সমর্থনে বিপজ্জনক পথ দিয়ে প্রনালি অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি নৌযানকে সতর্ক করা হয়। এর মধ্যে দু'টি ফিরে গেলেও বাকি দু'টি দুর্ঘটনার শিকার হয়।
অপরদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা তাদের নৌ-অবরোধ পূর্ণ বাস্তবায়নে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং একটি জাহাজকে অকার্যকর করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, উত্তর ইরাকে ইরানের একটি ভূপাতিত ড্রোনের অবিস্ফোরিত বোমার নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে শনিবার এক আমেরিকান সেনা নিহত হন। এর আগে শুক্রবার জর্ডানে ইরানের এক মারাত্মক হামলায় দু'জন মার্কিন সেনা নিহত হন এবং আরেকজন নিখোঁজ হন, যার দেহাবশেষ শনাক্তের কাজ চলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন
জর্ডানের আকাবা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
যুদ্ধ ও তাপপ্রবাহে অচল ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
জাতীয় ঐক্যই বিজয়ের শর্ত: গালিবাফ