উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবিলায় দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকার সামরিক ছাতার ওপর ভরসা করে আসছিলো দক্ষিণ কোরিয়া। তবে ওয়াশিংটনের কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সামরিক সিদ্ধান্ত দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক জোটে চরম টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার না করে ট্রাম্প তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে পেন্টাগনকে এই মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দেন। তাঁর দাবি, এই যৌথ অনুশীলন উত্তর কোরিয়াকে একটি অযাচিত ও শত্রুতামূলক বার্তা পাঠায়। তবে এই নির্দেশের নেপথ্যে আসল ক্ষোভ প্রকাশ পায় ট্রাম্পের মন্তব্যে—যেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, সিউল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান ইরান যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ওভাল অফিসে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, আমাদের ৩৯ হাজার সেনা সীমান্তে অবস্থান করে উত্তর কোরিয়ার হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করছে, আর তোমরা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সাহায্য করবে না? এটা সত্যিই অদ্ভুত।
জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির জাতীয় ছুটির দিনে আসা এই একতরফা ঘোষণায় সিউলের প্রশাসন চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বা হোয়াইট হাউস থেকে তাঁদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। ট্রাম্পের এই আকস্মিক পদক্ষেপে বাধ্য হয়ে পূর্বনির্ধারিত ১১ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে মাত্র ৫ দিনে নামিয়ে আনা হয় এবং ফিল্ড ট্রেনিংয়ের আওতাও ছোট করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাবলম্বী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেন। একই সাথে তিনি পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় সিউলের সম্ভাব্য সহযোগিতার কথা তুলে ধরে ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করেন। তবে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আমেরিকার ওপর আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ দৈনিকগুলো অভিযোগ করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের চেয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত যেভাবে বারবার ব্যক্তিবিশেষের রাজনৈতিক ইচ্ছেপ্রসঙ্গের ওপর বদলে যাচ্ছে, তাতে সিউলের জন্য আমেরিকার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। আসান ইনস্টিটিউট ও সেজং ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টি দুর্বল হতে থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নিজেদের ‘স্বাধীন পারমাণবিক সক্ষমতা’ গড়ে তোলার দাবি দ্রুত জোরালো হচ্ছে।
একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়াকে তোষণ করার এই ট্রাম্প-নীতি সাড়ে সাত দশকের পুরোনো দক্ষিণ কোরিয়া-মার্কিন সামরিক জোটকে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইসরায়েলে দেশত্যাগের 'সুনামি'
যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু ঋণ বাংলাদেশের চেয়ে শতগুণের বেশি
যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু ঋণ ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা