একসময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইহুদিদের ইসরায়েলে আসার জোয়ার থাকলেও, বর্তমান সময়ে সেই চিত্রে বড় ধরনের উল্টো বাতাস বইছে। চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগেই রেকর্ডসংখ্যক ইসরায়েলি নাগরিক স্থায়ীভাবে দেশত্যাগ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষিত, দক্ষ ও ধনী শ্রেণির মানুষের এই দেশ ছাড়ার ঢল ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে গভীর সংকটের মুখে ফেলছে।
ইসরায়েলের রাজস্ব কর্তৃপক্ষের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ এই তিন বছরে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ দেশ ছেড়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৮৬,৫০০ জন, ২০২৪ সালে ৯১,৫০০ জন এবং ২০২৫ সালেও প্রায় সমপরিমাণ নাগরিক দেশ ত্যাগ করেছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যারা দেশ ছাড়ছেন তাদের বড় একটি অংশ সর্বোচ্চ করদাতা এবং তাদের আয় গড় নাগরিদের চেয়ে অনেক বেশি।
অনেক সাধারণ ও উদারপন্থি ইসরায়েলি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে এবং আদালতের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করছে। ২০২৩ সালে বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার যে বিতর্কিত আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিবাদে দেশের হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। তাঁদের মতে, এটি দেশের মৌলিক কাঠামাকে ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত ছিল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও আঞ্চলিক যুদ্ধ এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গাজায় চলমান হামলায় ইতিমধ্যে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অনেক ইসরায়েলি এই যুদ্ধের নীতিগত বিরোধী না হলেও, সীমান্তজুড়ে লাগাতার সংঘাতের কোনো শেষ না থাকা এবং সরকারের ঘোষিত ‘বিজয়’ অর্জনে ব্যর্থতা সাধারণ নাগরিকদের মনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তারা নিজেদের একটি চিরন্তন যুদ্ধের চক্রে বন্দী মনে করছেন।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টের অভিবাসন কমিটির প্রধান ও বিরোধী দলের নেতা গিলাদ কারিভ বিষয়টিকে অভিবাসনের 'সুনামি' হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই মেধা পাচার ঠেকাতে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপই নিচ্ছে না।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয় এবং অরনিম কলেজের জনসংখ্যাতত্ত্ববিদ ও অধ্যাপকদের মতে, আগে সাধারণত কেবল সাময়িক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে মানুষ দেশ ছাড়লেও এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার ক্যারিয়ারের চেয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার অনিশ্চয়তাই প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব তরুণ পরিবার, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদরা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন, তারা আর ফিরে আসতে আগ্রহী নন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ও গবেষণার ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা ইসরায়েলি অর্থনীতি থেকে যদি এই দক্ষ ও তরুণ গোষ্ঠী এভাবে হারিয়ে যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইউক্রেনে রাতভর রাশিয়ার হামলা, নিহত ৫
ক্যামেরুন সীমান্তে সোনার খনিতে ভূমিধস, নিহত বেড়ে ১০৭
মার্কিন ৫ নাগরিকসহ ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধান নিহত