ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধে বড় বাধা চীন-রাশিয়া

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে, তাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক জরিমানা চাপানো হবে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের শীর্ষ দুটি বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ও রাশিয়াকে কাবু করা ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে, যার ফলে ট্রাম্পের এই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় জানান, ইরানকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে ফেলতে এই পর্যন্ত ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ক্রাশিং অপারেশন পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। তেল চোরাচালান, ক্যাশ ট্রান্সফার, ফ্রন্ট কোম্পানি বা কোনো আর্থিক মাধ্যমের সাহায্যে ইরানকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চীন কেন ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে গ্রাহ্য করছে না?

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের (Kpler) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের রপ্তানি করা তেলের শতকরা ৮০ ভাগই কিনেছে চীন। চীনের যেসব স্বাধীন শোধনাগার বা 'টিপট' এই তেল কেনে, তাদের সাথে মার্কিন ডলার বা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, চীনের বড় ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে দুই দেশের চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে, যা বর্তমানে ওয়াশিংটন এড়াতে চায়। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চাপ সৃষ্টি বা নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কোনো সমস্যার সমাধান আনবে না।

রাশিয়ার সাথে সমান্তরাল মিত্রতা

রাশিয়ার ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপটটি আরও ভিন্ন। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে মস্কো, যার ফলে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কাজ করার কৌশল রাশিয়ার বেশ জানা।

সম্প্রতি ২০২৫ সালের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর রাশিয়া ও ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। কাস্পিয়ান সাগরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার অবাধ সামরিক ও অর্থনৈতিক আদান-প্রদান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ব্যর্থ নীতির পুনরাবৃত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল নতুন পরাজয়ের মুখেই পড়তে হবে। একই সাথে ব্রিকস অর্থনৈতিক জোটে যুক্ত হয়ে বিকল্প মুদ্রায় বাণিজ্য প্রসার ও অর্থায়নের সুযোগ খুঁজছে তেহরান।

YA
আরও পড়ুন