আনোয়ারের বক্তব্যে চটেছে তাইওয়ান, খুশি চীন

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

তাইওয়ান সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জেরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কি তার দেশের চিরাচরিত 'জোটনিরপেক্ষ' নীতি ও চীন-আমেরিকার দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকার অবস্থান থেকে সরে আসছেন- তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

চলতি মাসে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার সরাসরি বলেন, আমি তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবেই দেখি, ব্যাস।

তিনি দাবি করেন, এটি সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত। সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয় যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, শান্তিপূর্ণ একীকরণ ব্যর্থ হলে চীন শক্তি প্রয়োগ করলে তিনি কি বেইজিংয়ের নিন্দা করবেন?

জবাবে আনোয়ার মালয়েশিয়ার নিজস্ব অখণ্ডতার উদাহরণ টেনে বলেন, তাঁর দেশের কোনো রাজ্য বিচ্ছিন্ন হতে চাইলে অখণ্ডতা রক্ষায় তিনিও শক্তি প্রয়োগ করতেন।

চীন সরকার আনোয়ারের এই মন্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। অন্যদিকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাইওয়ান সরকার সতর্ক করেছে যে, বেইজিংয়ের প্রতি আনোয়ারের এমন একপাক্ষিক সমর্থন মালয়েশিয়ায় তাইওয়ানি সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার কিছুটা নমনীয় হয়ে জানান, তারা বেইজিংয়ের অবস্থানকে সম্মান করেন তবে প্রণালিজুড়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান চান।

এদিকে সাক্ষাৎকারের কিছুদিন পরই প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার সাবাহ রাজ্যে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর কথা বলেন এবং এর পেছনে প্রতিবেশী ফিলিপাইনের বালাবাক দ্বীপে মার্কিন সমর্থনে সেনা ঘাঁটি আধুনিকায়নের যুক্তি তুলে ধরেন।

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের অনেকেই একে মালয়েশিয়ার চীনঘেঁষা নীতির লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন, কারণ চীন বর্তমানে মালয়েশিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এছাড়া গাজা ইস্যুতেও আনোয়ার পশ্চিমা বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান বজায় রেখে ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।

তবে অনেক আন্তর্জাতিক বিষেশজ্ঞ মালয়েশিয়ার নীতি বদলে যাওয়ার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক চি মেং তান বলেন, ১৯৭৪ সালের 'এক চীন' নীতির ধারাবাহিকতায় এই অবস্থান নতুন কিছু নয়, আনোয়ার কেবল তাঁর আগামী সেপ্টেম্বরের চীন সফর উপলক্ষে বেইজিংকে কিছুটা সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া ফাইভ পাওয়ার্স ডিফেন্স অ্যারেঞ্জমেন্টস (FPDA)-এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে এখনো গভীর সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে মালয়েশিয়া। 

সূত্র: আল-জাজিরা

ওয়াইএ
আরও পড়ুন