ফিলিস্তিনে যুদ্ধকে 'এআই' যুগে নিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

ফিলিস্তিনকে ঘিরে ইসরায়েল-সমর্থিত প্রচারণা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জগতেও প্রভাব বিস্তারের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি’ নামে একটি কথিত মার্কিন থিংকট্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এর প্রকৃত অস্তিত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কোনো দৃশ্যমান কার্যালয়, পরিচিত গবেষক বা উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি এমন বিপুল পরিমাণ একাডেমিক ধাঁচের কনটেন্ট তৈরি করেছিল, যা সার্চ ইঞ্জিন ও এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। মাত্র নয় দিনে ১২৪টি প্রতিবেদনে ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শব্দ প্রকাশের দাবি করা হয়েছে।

এই কৌশলকে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান ‘AI Story Optimization’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর লক্ষ্য ছিল এআই সিস্টেম যেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে উত্তর তৈরি করে, সেই তথ্যভাণ্ডারে নির্দিষ্ট বয়ানকে বেশি দৃশ্যমান করে তোলা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষায় ChatGPT ও Perplexity গাজার পরিস্থিতি, ইহুদিবিদ্বেষ ও জায়নবাদবিরোধিতা নিয়ে নিরপেক্ষ প্রশ্নের উত্তরে হ্যানোভার-সংশ্লিষ্ট উপাদান উদ্ধৃত করেছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা কোনো উৎসকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান মনে করলেও বাস্তবে সেটি একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণার অংশ হতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনা এআই-নির্ভর তথ্যব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতাও সামনে এনেছে। কারণ এআই নিজে বাস্তবতার সরাসরি উৎস নয়; মানুষের তৈরি তথ্যভাণ্ডার থেকেই সে উত্তর তৈরি করে। ফলে কোনো সরকার, রাজনৈতিক সংগঠন বা স্বার্থগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট ছড়িয়ে দিলে তা এআইয়ের উত্তরেও প্রতিফলিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারণার এই নতুন ধরন শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকার, রাজনৈতিক দল, করপোরেট প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠী এআইয়ের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করতে একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করতে পারে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন