পুতিনের সঙ্গে মার্কিন দূতদের কি আলোচনা হলো?

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের আলোচনা ‘গঠনমূলক, ফলপ্রসূ ও অত্যন্ত খোলামেলা’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মস্কোয় ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে মার্কিন দূতদের বৈঠক চলে ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, আলোচনায় শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বড় যৌথ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

উশাকভ বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুতিন রাশিয়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি। ক্রেমলিনের এই কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতির কথা তুলে ধরেছেন এবং রাশিয়া তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন দূতেরা যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাধানের বিভিন্ন পথ নিয়ে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, উইটকফ ও কুশনার জানিয়েছেন- মস্কোয় পুতিনের দেওয়া মূল্যায়ন ও অবস্থান তারা কিয়েভে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় বিবেচনায় রাখবেন। পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে এবং মার্কিন আলোচক দলের মাধ্যমেও আলোচনা চলবে বলে জানান তিনি।

এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্পের ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এগিয়ে নিতেই পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উইটকফ ও কুশনার। আলোচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ নিয়ে কথা হয়েছে। এসব পরিকল্পনার বিষয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা আসতে পারে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

তবে তিন ঘণ্টার বেশি সময়ের এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি বা বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। রুশ ও মার্কিন সূত্রগুলোও আলোচনার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবগুলো প্রকাশ করেনি। বৈঠক শেষে উইটকফ ও কুশনার মস্কো ত্যাগ করেছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তাদের ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যাওয়ার কথা, যেখানে তারা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করবেন।

এই সফরকে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যুদ্ধের মূল কারণ, ভূখণ্ড এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের বড় পার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

জেএম
আরও পড়ুন