ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ করতে ট্রাম্প প্রশাসন সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে মোতায়েন মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনার সংখ্যা কমানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে দেশটির সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। আলোচনায় সেনা ও স্থাপনা কমানোর পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে অবশিষ্ট মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আরও সুরক্ষিত করার বিষয়টিও রয়েছে।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানায়, সিএনএন ছয়টি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের পরিবর্তন হলে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে বাড়ানো মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতিতে আরেকটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং এক ডজনের বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। সিএনএনের দুটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছর থেকেই অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর কাঠামো পরিবর্তনের কয়েকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে সামরিক বাহিনী। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বাহিনী পুনর্বিন্যাস পর্যালোচনা শুরু হয়নি।
পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সেনা কমিয়ে প্রতিরক্ষার বড় অংশ আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে তুলে দিতে চান বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে সেনা কমানোর পাশাপাশি অবশিষ্ট বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবছে পেন্টাগন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে কিছু সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে সরিয়ে নেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। সংঘাতের সময় ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘দুর্বলতাগুলো সব সময়ই জানা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়নি।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হামলায় সৌদি আরবের রিয়াদে সিআইএর একটি ঘাঁটি কার্যত ধ্বংস হয়েছে। বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে।
এ ছাড়া গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনায় স্থায়ী ঘাঁটির প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট অভিযানের জন্য জনবল ও সরঞ্জাম পাঠিয়ে পরে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হতে পারে।
হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হওয়া কিছু স্থাপনা বিপুল ব্যয়ের কারণে নতুন করে নির্মাণ না করার কথাও ভাবছে ওয়াশিংটন। পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস ‘জে’ হার্স্ট তৃতীয় এপ্রিলেই বলেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের ওপর।
তবে সেনা কমানোর আলোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা এখনো অনেক দূরে। গত সপ্তাহেও জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যে কিছু বড় স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি অবশ্যই থাকবে বলে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা মনে করছেন। তবে সেগুলোর পুনর্নির্মাণের খরচ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বহন করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও অংশ নিতে হতে পারে।
এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদস্যদের দ্রুত ফেরার সম্ভাবনা নেই। নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘আমরা শিগগিরই সেখানে ফিরছি না।’