নির্বাচনের পরেই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ফের হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হবে বলে তার ধারণা। ইরান আর বেশি সময় ধরে টিকে থাকতে পারবে না এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য দেশটি মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের বিপরীতে হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা ভিন্ন আশঙ্কা করছেন। 

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত তার বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্তও চলতে পারে। ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে। এর আগে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সেসব সময়সীমার কোনোটিই স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ফের হামলার হুমকি:
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়েও নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত এই এলাকায় ভূগর্ভে গভীরভাবে নির্মিত দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে। রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স এলাকায় কিছু তৎপরতা তার নজরে এসেছে। ইরানকে কোনো ধরনের চালাকি না করার সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকেই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

সৌদি আরবেও বাড়ছে উত্তেজনা:
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক হুথি হামলায় খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণ সৌদি আরবের চারটি শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হুথিরা দাবি করেছে, তারা খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের শহরগুলোর তেল অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সর্বশেষ জরুরি সতর্কতার পর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

জেএম
আরও পড়ুন