ইয়েমেনে হুথিদের দখলে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে সৌদি আরব ও তাদের মিত্রদের পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। এর প্রধান লক্ষ্য মোখা শহর এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণাঞ্চলের এলাকাগুলো পুনর্দখল করা। ইতোমধ্যে এসব এলাকায় সৌদি বিমান হামলা শুরু হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি সানা থেকে জানিয়েছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন পাল্টা অভিযানের লক্ষ্য শুধু হুথিদের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল নয়; সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটি যেসব এলাকা দখল করেছে, সেগুলোও এর আওতায় রয়েছে।
তবে হুথিরা এ ধরনের পাল্টা আক্রমণের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। তাদের ধারণা ছিল, সৌদি আরব ও তাদের মিত্ররা দখল করা অঞ্চলগুলো ফিরিয়ে নিতে সামরিক অভিযান চালাবে। সে কারণেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আড়াল করার কৌশল তারা আগেই কাজে লাগিয়েছে।
হুথিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা হলো স্টেলথ বা গোপন যুদ্ধকৌশল। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা কোনো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর নিজেদের অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা রাডার দ্রুত আড়াল করে ফেলতে পারে। ফলে প্রতিপক্ষের পক্ষে সেগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই কৌশলই এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। হুথিদের সামরিক সক্ষমতা এবং বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল অর্জন করা যায়নি।
কারণ, উন্নত প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও হুথিদের সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়েছে। সংগঠনটির যোদ্ধারা দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন, সামরিক সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখা এবং ভূগর্ভস্থ বা সুরক্ষিত স্থাপনায় অস্ত্র সংরক্ষণের মাধ্যমে হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
মাওরির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকার যদি হুথিদের কাছ থেকে দখল করা অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধার করতে চায়, তাহলে শুধু বিমান হামলা যথেষ্ট হবে না। দক্ষিণ ইয়েমেনে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ করে বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বড় সামরিক ঘাঁটি এবং বৃহস্পতিবার সংগঠনটির দখলে যাওয়া বড় অস্ত্রভাণ্ডার পুনরুদ্ধার করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব কৌশলগত স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে হুথিরা দক্ষিণ ইয়েমেনে নিজেদের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে।
ফলে হারানো ভূখণ্ড পুনর্দখলে সৌদি আরব ও ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালাতে হতে পারে। কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে হুথিদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকেরা।
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইয়েমেনি সরকার হারানো কৌশলগত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানোর পথেই এগোচ্ছে। তবে হুথিদের গোপন যুদ্ধকৌশল, ভূখণ্ডে তাদের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি এবং দ্রুত সামরিক অবস্থান পরিবর্তনের সক্ষমতা এই অভিযানকে সৌদি জোটের জন্য কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে।
বিশেষ করে বাব আল-মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বাড়লে এর প্রভাব শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। লোহিত সাগরের নৌ চলাচল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনা স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছিলো ইরান!
২০২৩ সালে আবেদন করেও ব্রিকসের সদস্যপদ পায়নি পাকিস্তান
সামরিক বিমানের ভুল তথ্যে যুক্তরাজ্যে আকাশপথ বিপর্যয়: প্রতিবেদন