ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটির পাঁচ লাখের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের একজন শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তিনি এ তথ্য জানান।
যুক্তরাজ্যের চিফ অব দ্য ডিফেন্স স্টাফ এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন সাংবাদিকদের বলেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার মোট সামরিক হতাহত প্রায় ১৫ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার দেওয়া এই হিসাব ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত পরিসংখ্যানের সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এ বিষয়ে রুশ সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাইটনের মতে, জনবল ও সামরিক সক্ষমতায় বড় সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না।
পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের বক্তব্য, চলতি বছরে রুশ বাহিনীর অগ্রগতির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
শুধু জনবল নয়, যুদ্ধের চার বছরে রাশিয়া বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামও হারিয়েছে বলে জানান নাইটন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে ১০ হাজারের বেশি সাঁজোয়া ও সুরক্ষিত যান, প্রায় ৩ হাজার বিমান প্রতিরক্ষা ও কামান ব্যবস্থা এবং ৩৭০টির বেশি বিমান ও হেলিকপ্টার।
তবে ইউক্রেনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কোনো পরিসংখ্যান দেননি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান।
রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশই যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সামরিক হতাহতের সংখ্যা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে না। ফলে উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
রাশিয়ার তুলনামূলকভাবে বড় সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনের ভূখণ্ডে দ্রুত অগ্রসর হতে না পারার বিষয়টি যুদ্ধের বর্তমান গতিপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে বিপুল প্রাণহানি ও সামরিক সরঞ্জাম হারানোর পরও মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা যুদ্ধটির দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও সামরিক মূল্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
'বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে ইরান'
গোপন কৌশলের যুদ্ধে বিশেষ দক্ষ হুথিরা