হরমুজ এখনও ইরানের নিয়ন্ত্রণে: আইআরজিসির উপপ্রধান

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) উপপ্রধান মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া বক্তব্যে ইজাদি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্থলবাহিনীর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করছে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দিতে ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ইজাদির বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জলপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না।

১৯ সেপ্টেম্বর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফাজল শেখারচিও বলেন, হরমুজে ‘উদ্যোগ’ এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে রয়েছে। তিনি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন যে গত দুই মাসে মার্কিন বাহিনী হরমুজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনে সহায়তা করেছে।

এর আগে আইআরজিসিও জানিয়েছিল, ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে প্রণালিটি অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। আগস্টে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতায় ফিরে না এলে হরমুজ পুনরায় পুরোপুরি খুলবে না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলছে, হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে তারা সহায়তা করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, গত দুই মাসে মার্কিন বাহিনী ১ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল পরিবহনে সহায়তা করেছে এবং ২ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষা দিয়েছে।

তবে ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে হরমুজে বাস্তবে কোন পক্ষ কতটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে—তা নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

মোস্তফা ইজাদি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের সামরিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। এরপর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্থল সক্ষমতা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

আগস্টে ইজাদি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান তার সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এরপর ইরানের সামরিক নেতৃত্বেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। ইজাদিকে আইআরজিসির নতুন উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত