জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। কিন্তু অধিবেশনের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক কঠোর বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি করেছে।
২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরান নিয়ে তাঁকে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। তাঁর সামনে একটি পথ হলো এমন একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে ইরান পুনর্গঠিত হয়ে আগের চেয়েও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। অন্য পথ হিসেবে তিনি বলেন, তিনি ‘ইসলামিক রিপাবলিককে ধ্বংস’ করতে পারেন এবং তা দ্রুত করতে পারেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তাৎপর্য শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে একটি চলমান যুদ্ধের মধ্যে একটি রাষ্ট্রকে ‘ধ্বংস’ করার সম্ভাবনা প্রকাশ করা বহুপাক্ষিক কূটনীতির উদ্দেশ্য, আন্তর্জাতিক আইন এবং শক্তির ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—কঠোর সামরিক হুমকির পাশাপাশি তিনি আলোচনার সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন।
তিনি বলেছেন, ইরান চাইলে এমন একটি চুক্তির মাধ্যমে দেশটির পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে এবং দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে।
অর্থাৎ ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থানে দুটি বার্তা পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে—একদিকে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করার ইঙ্গিত।
এটি নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ট্রাম্পের ভাষণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়েছে বলে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
আস্থা ফেরানোর মঞ্চে শক্তির ভাষা
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেছেন, শান্তি শুধু সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়; আইনের মাধ্যমে শক্তির সংযমও শান্তির অংশ। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমানো, সংলাপ এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
সেখানেই এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যটি স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে বিশ্বনেতারা বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির মাধ্যমে আস্থা পুনর্গঠনের কথা বলছেন; অন্যদিকে একই মঞ্চে একটি চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং একটি রাষ্ট্রকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকিও উচ্চারিত হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতির আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। কঠোর বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকাশ্য বক্তব্যে সংঘাত যতটা তীব্র, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগ ততটা বিচ্ছিন্ন হয়নি।
এখন পেজেশকিয়ানের ভাষণ সেই কূটনৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ, মিনাব হামলা, অবরোধ ও ইরানের আলোচনার শর্ত তুলে ধরলে নিউইয়র্কের সাধারণ পরিষদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দুই বিপরীত বয়ান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের খলিলুর রহমানের জন্যও কঠিন পরীক্ষা
এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে ৮৫৪২ জনের ‘বিধিবহির্ভূত’ নিয়োগ