ইসরায়েল ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইহুদিদের বিরুদ্ধে ইরানসহ চলমান হুমকির মুখে যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের পাশে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এসব হুমকি মোকাবিলায় সমর্থন থাকলেও গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডকে এর মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া যায় না।
বার্নহ্যাম বলেন, “ইসরায়েল ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইহুদিদের বিরুদ্ধে ইরানসহ চলমান হুমকির মুখে আমরা ইসরায়েলের পাশে আছি।” তবে হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান হুমকি গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেয় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘে নিজের প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে নিন্দা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য হামাসের কর্মকাণ্ডের নিন্দা অব্যাহত রাখবে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানাবে।
গাজা ও পশ্চিম তীরে অবস্থান
ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
বার্নহ্যাম বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাও হুমকির মুখে পড়ছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছিল, বসতি সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ফলে জাতিসংঘে বার্নহ্যামের বক্তব্যে একদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হুমকির নিন্দা, অন্যদিকে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা—দুটি অবস্থানই একসঙ্গে উঠে এসেছে।
ইরান প্রসঙ্গ
বার্নহ্যামের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। একই সময়ে নিউইয়র্কে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডন একদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন বজায় রাখছে, অন্যদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি ও গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে চাপ প্রয়োগের নীতিও গ্রহণ করেছে।
বার্নহ্যামের বক্তব্যে তাই যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্য নীতির দুটি দিক স্পষ্ট হয়েছে—ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হুমকির বিরোধিতা এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান।
ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাসক্ষেত্র উৎপাদনে ফিরেছে: ইরান
জাতিসংঘে আস্থার সংকট আরও গভীর হলো
এফবিআইয়ের বিপুল তথ্য চুরির দাবি করলো শাইনি হান্টার্স