মার্চে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের উপ-তেলমন্ত্রী আহমাদ জেরাতকার বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতার ৫০ শতাংশ এখন আবার উৎপাদনে ফিরেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারসের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সাউথ পার্সের কার্যক্রম পুরোপুরি সচল করার লক্ষ্য রয়েছে। জেরাতকার বলেন, সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে এবং শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বাকি পরিকল্পিত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এর আগে আগস্টের শেষ দিকে জেরাতকার জানিয়েছিলেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাউথ পার্সের প্রায় ৪০ শতাংশ সক্ষমতা পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে। তখন তিনি বলেছিলেন, ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে এবং পুনর্গঠন পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে চলছে।
সাউথ পার্স পারস্য উপসাগরে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম অফশোর প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের ইরানি অংশ। এর অপর পাশে কাতারের অংশটি ‘নর্থ ফিল্ড’ নামে পরিচিত। দুই দেশ একই বিশাল গ্যাস মজুত ভাগ করে ব্যবহার করে।
ইরানের জন্য সাউথ পার্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্প খাতের বড় অংশ এই গ্যাসক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল। এর উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালি জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে।
আগস্টের শেষ দিকে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশ পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে। একই সময়ে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছিলেন যে কিছু স্থাপনার ক্ষতি ছিল গুরুতর এবং পুরো অবকাঠামো পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
তবে সাউথ পার্সের বিভিন্ন অংশের পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি এক নয়। আগস্টে পার্স অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোরাজ দেহঘানি জানিয়েছিলেন, সাউথ পার্সের একটি নির্দিষ্ট—ফেজ ১৪—পরিশোধন স্থাপনার উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ফলে পুরো সাউথ পার্সের ৫০ শতাংশ এবং নির্দিষ্ট কোনো ফেজের ৭০ শতাংশ—দুটি পরিসংখ্যানকে একই বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
মার্চে সাউথ পার্সে হামলার পর ইরান দ্রুত উৎপাদন সচল করার উদ্যোগ নেয়। মে মাসেই দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মে মাসে সাউথ পার্সের তিনটি অফশোর প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্যাস উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার খবরও এসেছিল। ওই প্ল্যাটফর্মগুলো সরাসরি বড় ধরনের ক্ষতির শিকার না হওয়ায় উৎপাদিত গ্যাস অন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনায় পাঠানো হচ্ছিল।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে ধ্বংসাবশেষ সরানো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন ইউনিট পুনর্গঠনের কাজ ধাপে ধাপে চলছে।
জেরাতকারের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সাউথ পার্সকে পুরোপুরি সচল করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে আগের বক্তব্যে তিনি ক্ষতির ব্যাপকতার কারণে পূর্ণ পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগার কথাও বলেছিলেন। ফলে ‘উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার’ এবং ‘পুরো অবকাঠামোর পুনর্গঠন’—দুটি আলাদা প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
ইরানের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শীত মৌসুমে গ্যাসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। সাউথ পার্সের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা তাই শুধু রপ্তানি নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
সাউথ পার্সের সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের খবর ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ শতাংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে—এটি ইরানি কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য; স্বাধীনভাবে এর পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা হয়নি।
অন্যদিকে, স্থাপনাটির পুরো সক্ষমতা কখন এবং কীভাবে স্বাভাবিক হবে, তা নির্ভর করবে পুনর্গঠন, যন্ত্রপাতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো হামলা হয় কি না—এসব বিষয়ের ওপর।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ফলে সাউথ পার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা এবং উৎপাদন পুনরুদ্ধার ভবিষ্যৎ আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘে আস্থার সংকট আরও গভীর?
বাংলাদেশের খলিলুর রহমানের জন্যও কঠিন পরীক্ষা
ট্রাম্পের হুমকির পরই নিউইয়র্কে মার্কিন-ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠক