কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দুর্ঘটনা বা ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগের জন্য দ্বিপক্ষীয় একটি যোগাযোগ চ্যানেল চালু করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর এ তথ্য জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউস জানায়, এআই-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে এ বিষয়ে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে ট্রাম্প ও শির বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য এবং ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছর আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে আরও দুইবার বৈঠকে বসার বিষয়েও দুই নেতা সম্মত হয়েছেন।
এআই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের উদ্যোগটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রযুক্তিটি বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। তাই এ প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি এর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সক্ষমতা ও দায়িত্ব রয়েছে।
শি দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, এই প্রতিযোগিতা এমন হওয়া উচিত, যেখানে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে; এমন কোনো লড়াই নয় যেখানে একজনের জয় মানেই অন্যজনের পরাজয়।
বৈঠকে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই দেশ বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। আগে নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন এর মেয়াদ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে দুই পক্ষ আলোচনার জন্য আরও সময় পায়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত এক কোটি মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলারের অ-সংবেদনশীল পণ্যে আরও অনুকূল শুল্ক ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে।
বৈঠকে তাইওয়ান, মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন শি।
বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, শির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র পাবে। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে বড় ধরনের অগ্রগতির চেয়ে আনুষ্ঠানিকতা ও সৌজন্যই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
চলতি বছরের নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে এপেক সম্মেলনের ফাঁকে এবং ডিসেম্বরে মিয়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্প ও শি আবার বৈঠকে বসবেন। দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখাই এবারের বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে ট্রাম্পের
নভেম্বরে কী ফের শুরু হবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ?
পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী দেশ' বললেন জয়শঙ্কর