আলোচনার ক্ষেত্রে 'অতিরিক্ত কঠিন' অবস্থানে ইরান: ট্রাম্প

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী সপ্তাহে আবারও আলোচনায় বসার প্রত্যাশা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তেহরান আলোচনায় যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ইরান আলোচনার ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান অতিরিক্ত শক্ত করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আশা করছি, এই সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হবে।’ তাঁর ভাষ্য, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু সেটি যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি করতে চায়, তা নয়।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রস্তাবটি এমন একটি চুক্তির মতো, যা যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এক বছর আগে মেনে নিতে পারত। এরপরই তিনি মন্তব্য করেন, ‘তারা নিজেদের অবস্থান অতিরিক্ত শক্ত করেছে।’

এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়, যার মূল বিষয় ছিল কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরু করা।

তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেবে, ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করবে। এর বিনিময়ে ইরান এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা জানিয়েছিল।

তবে শনিবার ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ইরান বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেই দ্রুত একটি চুক্তি করতে চাইছে।

ট্রাম্প প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতারসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতা করছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল। কাতারি কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখেন।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনা সোমবার থেকেই শুরু হতে পারে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা পৃথকভাবে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রস্তাবের ভাষা পরিবর্তন করে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা খুঁজছেন।

ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

এনবিসি নিউজকে আরাগচি বলেন, ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে ইরানও তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এখনো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় আছে।

আরাগচির বক্তব্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আগ্রহী হয়।

আলোচনার কথা বললেও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেননি ট্রাম্প। ইরানে আবার হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় এটি নিয়ে ভাবছি।’

ফলে একদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন সামরিক বিকল্পও খোলা রেখেছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর গত সপ্তাহান্তে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ তেল হরমুজ দিয়ে পার হয়েছে—২০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি। মার্কিন এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাও শুক্রবার রাতে প্রায় ২২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন।

তবে হরমুজ পুনরায় পুরোপুরি স্বাভাবিক করা নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনও বড় পার্থক্য রয়েছে। ইরান প্রথমে অবরোধ, তেল নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য চাপ কমানোর শর্ত দিচ্ছে; অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও ছাড় চাচ্ছে।

ফলে নতুন আলোচনা শুরু হলেও দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে অন্তত এটুকু স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরও ওয়াশিংটন-তেহরান কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন