যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং তীব্র মুদ্রাস্ফীতির জোড়া আঘাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরানের অর্থনীতি। মুক্তবাজার বা অনানুষ্ঠানিক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দর সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার খোলা বাজারের দর পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট পাশিজি ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ডলারের বিক্রয়মূল্য নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। খোলা বাজারে প্রতি ১ মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য রেকর্ড ২৩ লাখ ইরানি রিয়ালে ঠেকেছে। এর ফলে ইরানের রিয়ালের মূল্য আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন দফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরপরই রিয়ালের এই নজিরবিহীন অবমূল্যায়ন ঘটে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে আরো বিচ্ছিন্ন করতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরানে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বর্তমানে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে খাদ্যপণ্যের দাম ১২৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিয়ালের দ্রুত অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি করা পণ্য ও কাঁচামালের দাম আরো বাড়তে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপও আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে। সর্বশেষ রিয়ালের রেকর্ড দরপতন সেই অর্থনৈতিক চাপকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে।
যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিতে বোমা আতঙ্কের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততা অস্বীকার
ইন্দোনেশিয়ায় ফেরিডুবি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬